রাজ্য – মানুষের ভোটে জয়ী হয়ে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন অশোক কীর্তনিয়া। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। মন্ত্রী হওয়ার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী লালবাতিযুক্ত গাড়িও পেয়েছেন তিনি। তবে সেই লালবাতি ব্যবহার করতে রাজি নন বনগাঁ উত্তরের এই বিধায়ক। নিজের গাড়ি থেকে লালবাতি খুলে রেখে স্পষ্ট বার্তা দিলেন, “আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে চাই।”
বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের দু’বারের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবেই রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। মানুষের মধ্যেই থেকে কাজ করতে চান বলেই তিনি লালবাতি ব্যবহার করতে চান না বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও লালবাতি ব্যবহার করছেন না। ঠিক সেই কারণেই আমিও করছি না।”
শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মতুয়া সম্প্রদায় ও নাগরিকত্ব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া উদ্বাস্তু মতুয়ারা যদি Citizenship Amendment Act বা সিএএ-তে আবেদন করেন, তাহলে তাঁরা দেশের নাগরিকত্ব পাবেন এবং সমস্ত সরকারি পরিষেবার সুবিধাও পাবেন।
একইসঙ্গে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “কোনও বিদেশি নাগরিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। তাঁদের নামে থাকা রেশন কার্ড অবিলম্বে বাতিল করা হবে।” খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সেই নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ নিয়েও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে খাদ্যমন্ত্রীকে। রবিবার সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমির প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সেই কারণে জমির মালিকদের সহযোগিতার আবেদনও করেন তিনি।
মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে এলাকার বাসিন্দারাও নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কোন কোন এলাকা দিয়ে কাঁটাতার যাবে তা নিয়েও স্থানীয় স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, সরকার যদি ন্যায্য মূল্য দেয়, তাহলে জমি দিতে তাঁদের আপত্তি নেই।




















