শান্তিচুক্তির জল্পনার মাঝেই হরমুজে হামলা, ফের উত্তপ্ত আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক

শান্তিচুক্তির জল্পনার মাঝেই হরমুজে হামলা, ফের উত্তপ্ত আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশার আবহেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মধ্যপ্রাচ্য। মঙ্গলবার ভোরে হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরান রেভোলিউশনারি গার্ডের একটি নৌকায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
মার্কিন সেনার দাবি, আত্মরক্ষার্থেই এই হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকার এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য, আইআরজিসির দু’টি নৌকা সমুদ্রের তলদেশে মাইন পোঁতার কাজ করছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই পালটা আঘাত হানে মার্কিন নৌবাহিনী। একইসঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরানের বান্দার আব্বাস এলাকা থেকেও মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চলছিল। তার জবাবেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনার আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি অনেকটাই শান্তির দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছিল। গত রবিবার ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল তেহরান। সেই প্রেক্ষিতেই শান্তিচুক্তি আসন্ন বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কো রুবিও। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে জানান, তাড়াহুড়ো করে কোনও চুক্তি করতে চান না তিনি। সময় নিয়ে ধাপে ধাপে আলোচনা এগোতে চান।
শান্তি আলোচনা চলাকালীনই এই সামরিক সংঘর্ষ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহলে। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান কি আলোচনার গতি মন্থর করে দিল? মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ তিন মাসের সংঘাত কি আরও দীর্ঘায়িত হতে চলেছে? এমন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে কূটনৈতিক মহলে।
যদিও মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই হামলার সঙ্গে শান্তি আলোচনার কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। কিন্তু হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতেই হবে। ফলে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়েছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।
এদিকে শান্তি বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই কাতারে পৌঁছে গিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী এবং প্রতিনিধিদল। এখন গোটা বিশ্বের নজর সেই বৈঠকের দিকে। আদৌ কি শান্তিচুক্তি সম্ভব হবে? থামবে কি মধ্যপ্রাচ্যের রক্তক্ষয়ী সংঘাত? নাকি হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, সেটাই এখন দেখার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top