কলকাতা :- গত কয়েকদিন ধরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল ফুটবল মহলে। অনেক বিশেষজ্ঞের মত ছিল, বয়সের ভারে তিনি আর আগের মতো কার্যকর নন এবং পর্তুগালের প্রথম একাদশে তাঁর জায়গা হওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ তো এমনও মন্তব্য করেছিলেন যে, রোনাল্ডোকে দলে রাখা মানে কার্যত ১০ জন নিয়ে খেলা। তবে সব সমালোচনার জবাব তিনি দিলেন নিজের সবচেয়ে পরিচিত উপায়ে— মাঠে পারফরম্যান্স দেখিয়ে।
মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে নামেন পর্তুগাল অধিনায়ক। তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। আর সেই আস্থার মর্যাদা দিতে একটুও সময় নেননি রোনাল্ডো। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় গোল করে ইতিহাস গড়ে ফেলেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন পর্তুগিজ মহাতারকা। বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা ছয়টি আসরে গোল করার কৃতিত্ব অর্জনকারী বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লেখান তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই রেকর্ডকে অত্যন্ত বিরল এবং অসাধারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি পরিসংখ্যান ঘুরে বেড়াচ্ছিল, যেখানে দেখা যাচ্ছিল বিশ্বকাপ এবং ইউরো মিলিয়ে টানা ১০টি বড় ম্যাচে গোল করতে পারেননি রোনাল্ডো। তাঁর শেষ বিশ্বকাপ গোল এসেছিল ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ঘানার বিরুদ্ধে পেনাল্টি থেকে। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে গোলের দেখা না পাওয়ায় সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছিল।
কিন্তু উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই সব আলোচনা এক মুহূর্তে বদলে দেন তিনি। ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে আরও একটি রেকর্ড গড়েন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে পর্তুগালের জার্সিতে সর্বাধিক গোলের মালিক এখন তিনিই। গোল করার পর তাঁর বিখ্যাত ‘সিউ’ উদযাপনে মেতে ওঠেন সতীর্থ ও সমর্থকরা।
এই পারফরম্যান্স শুধু পর্তুগালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং এটি ছিল সমালোচকদের উদ্দেশে এক শক্তিশালী বার্তা। বহু প্রতিকূলতা, সমালোচনা এবং প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েও যে এখনও তিনি বড় মঞ্চে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন, সেটাই আবারও প্রমাণ করলেন রোনাল্ডো।
৩৯ বছর বয়সেও তাঁর ক্ষুধা, আত্মবিশ্বাস এবং লড়াই করার মানসিকতা ফুটবল বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে। উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে এই জোড়া গোল যেন শুধু একটি জয় নয়, বরং একজন কিংবদন্তির প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও এটি ছিল স্মরণীয় এক রাত, যেখানে আবারও দেখা গেল সেই পরিচিত ‘সিউ’ উদযাপন।




















