কলকাতা
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা ফের স্কুলের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠল। কবির জন্মশতবর্ষকে সামনে রেখে এ বার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে চিঠি দিল পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘের রাজ্য কমিটি। নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘রবীন্দ্রনাথের প্রতি’ এবং একাদশ-দ্বাদশের পাঠ্যক্রমে ‘আঠেরো বছর বয়স’ কবিতাটি ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য, এর আগে রাজ্যের স্কুলের বাংলা পাঠ্যক্রম থেকে সুকান্ত ভট্টাচার্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি বাদ পড়েছে। ২০১৪ সালে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের সময় তাঁর কবিতাগুলি বাদ দেওয়া হয় বলে দাবি সংগঠনের। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে রাজ্যে সেমেস্টার পদ্ধতি চালু হলেও সুকান্তের লেখা ফের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
এ বছর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষ। সেই আবহেই নতুন করে বিষয়টি সামনে এনেছে গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পবিত্র সরকার জানিয়েছেন, ছোটদের পাঠ্যক্রমে সুকান্তের কবিতা থাকা কোনও অতিরিক্ত দাবি নয়। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকার সুকান্তের কবিতা সিলেবাস থেকে বাদ দিয়ে অন্যায় করেছিল এবং বর্তমান সরকারের কাছে সেই লেখাগুলি ফেরানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রজত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, আগের সরকার যখন সুকান্তের লেখা পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দিয়েছিল, তখন তাঁরা সভা-সমিতিতে এর প্রতিবাদ করেছিলেন। তবে সে সময় সরকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এ বার নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রজত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক দর্শন আর সরকারের দর্শন এক বিষয় নয়। সরকার সকলের এবং সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি নাম। তাই জন্মশতবর্ষের বছরে তাঁর সৃষ্টি ফের স্কুলের পাঠ্যক্রমে জায়গা পাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।
অন্যদিকে, রাজ্যের স্কুলের পাঠ্যক্রমে আগামী দিনেও একাধিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন সিলেবাস নিয়ে গঠিত কমিটি বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম ও ঐতিহাসিক বিষয় পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দিয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতেই সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতা ফেরানোর দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে আবেদন জানাল গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ। এখন রাজ্য সরকারের তরফে এই দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।




















