আলিপুরদুয়ার
অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে ফের শোনা গেল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। বিহারের বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা প্রায় তিন বছরের একটি বাঘিনীকে শুক্রবার, ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হল। রাজ্যের বন দফতরের বাঘ পুনঃপ্রবর্তন কর্মসূচির প্রথম ধাপ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্সায় বাঘ ফেরানোর কথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পর নির্দিষ্ট সময়েই বাঘিনীকে বক্সার গভীর অরণ্যে ছেড়ে দেওয়া হল। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও।
বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ থেকে বেছে নেওয়া এই বাঘিনীকে ধরতে বনকর্মীদের বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযান চালাতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ট্রাঙ্কুলাইজার ব্যবহার করে তাকে নিরাপদে কাবু করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে তাকে হাসিমারা নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে সড়কপথে বক্সা টাইগার রিজার্ভে পৌঁছে দেওয়া হয় বাঘিনীটিকে।
বক্সার পরিবেশের সঙ্গে নতুন অতিথিকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রথমে তাকে এনক্লোজারে রাখা হয়েছিল। সেখানে তার আচরণ ও শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন বনকর্মীরা। প্রায় তিন বছরের এই বাঘিনীটি নতুন পরিবেশে স্বাভাবিক আচরণ করছে বলেও বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছিল।
বক্সায় বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর পিছনে রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। দীর্ঘদিন ধরে এই জঙ্গলে স্থায়ী বাঘের উপস্থিতি ছিল না। তবে বক্সার আশপাশে ভুটান ও অসমের বনাঞ্চল থেকে পুরুষ বাঘের যাতায়াতের প্রমাণ ট্র্যাপ ক্যামেরায় মিলেছে। সেই পরিস্থিতিতে একটি প্রজননক্ষম বাঘিনীকে বক্সায় এনে ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক প্রজননের সম্ভাবনা তৈরি করাই বন দফতরের অন্যতম লক্ষ্য।
শুধু একটি বাঘিনী দিয়েই এই কর্মসূচি শেষ হচ্ছে না। বন দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনে আরও কয়েকটি বাঘ বক্সা টাইগার রিজার্ভে আনার উদ্যোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে বক্সার জঙ্গলে একটি স্থায়ী বাঘের জনসংখ্যা গড়ে তোলার পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্যও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এদিন বক্সার রাজাভাতখাওয়া এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচিতেও অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। বনবস্তির বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন তিনি। পরে সাফারি গাড়িতে বক্সার পাহাড়ি এলাকার দিকে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।
বাঘিনীকে বক্সায় ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগকে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বন দফতরের কর্তারা। দীর্ঘদিন পর বক্সার জঙ্গলে বাঘের উপস্থিতি ফের প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন—দুই ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




















