দেশ – আজ, ১১ মে সোমবার, এক ঐতিহাসিক এবং বিরল ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে দেশ। গুজরাতের বিখ্যাত সোমনাথ মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘সোমনাথ অমৃত পর্ব ২০২৬’। এই উপলক্ষে মন্দিরের ৯০ মিটার উঁচু চূড়ায় প্রথমবারের মতো সম্পন্ন হবে মহা কুম্ভাভিষেকের আচার। সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এই বিশেষ অনুষ্ঠান, যা ভগবান শিবের আরাধনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ১১টি তীর্থস্থান থেকে পবিত্র জল সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই জল একটি বিশাল কুম্ভ বা ঘড়ায় ভরে আধুনিক ক্রেনের সাহায্যে মন্দিরের সর্বোচ্চ চূড়ায় তোলা হবে। এরপর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে পুরোহিতরা সম্পন্ন করবেন কুম্ভাভিষেকের মূল আচার। গোটা অনুষ্ঠান নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে সোমনাথ মন্দিরে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি প্রথমে সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গে বিশেষ পুজো অর্চনা করবেন, তারপর অংশ নেবেন কুম্ভাভিষেক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শুরুতে ‘সোমনাথ স্বাভিমান পর্ব’-এ অংশ নিয়েছিলেন তিনি, যা ছিল মন্দিরে প্রথম আক্রমণের হাজার বছর পূর্তির স্মরণ অনুষ্ঠান। এবার কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও সোমনাথের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন, “ধ্বংস থেকে সৃষ্টি”—সোমনাথের ইতিহাস আসলে ভারতের অদম্য সংস্কৃতি, আস্থা এবং পুনর্গঠনের প্রতীক। বহুবার আক্রমণ ও ধ্বংসের মুখে পড়েও যে মন্দির বারবার নতুন করে উঠে দাঁড়িয়েছে, তা দেশের ঐতিহ্য ও সহনশীলতার এক অনন্য উদাহরণ।
দক্ষিণ ভারতের বহু মন্দিরে প্রতি ১০ থেকে ১২ বছর অন্তর কুম্ভাভিষেকের প্রচলন থাকলেও সোমনাথ মন্দিরে এই আচার এবারই প্রথম অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেই কারণেই দেশজুড়ে ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। মন্দির চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমের কথা মাথায় রেখে আলো, জল, যাতায়াত এবং লাইভ সম্প্রচারের বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
ভারতের অন্যতম প্রাচীন তীর্থস্থান সোমনাথ মন্দির শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি দেশের বিশ্বাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। ১১ মে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি স্বর্ণালি অধ্যায়, যার সাক্ষী থাকবে গোটা দেশ।




















