কলকাতা – বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার দুই ইভিএম স্ট্রং রুম—ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল—ঘিরে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ধর্নায় বসেন শশী পাঁজা ও কুণাল ঘোষ। অন্যদিকে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এই ঘটনার পরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এরপর শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। স্ট্রং রুমগুলির নিরাপত্তা এবং সিসিটিভি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শশী পাঁজা, ফিরহাদ হাকিম এবং অসীম বসু।
সিইও দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শশী পাঁজা জানান, জরুরি বৈঠকের জন্য তৃণমূলের তরফে সিইও মনোজ আগরওয়ালকে ইমেল করা হলেও তার কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে অতিরিক্ত সিইও-র সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের অভিযোগগুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
তৃণমূলের অভিযোগ, কলকাতা সহ একাধিক স্ট্রং রুমে সিসিটিভি মনিটরিংয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। জলপাইগুড়ি, গাইঘাটা, হরিপাল, সাগরদিঘি, রামপুরহাট, আউসগ্রাম, আরামবাগ, নৈহাটি, এগরা, শালবনি সহ একাধিক কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ বারবার বিঘ্নিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী স্ট্রং রুমের সিসিটিভি নজরদারি নিরবচ্ছিন্ন থাকা বাধ্যতামূলক। সেই ব্যবস্থায় বারবার ব্যাঘাত ঘটলে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলে দাবি তৃণমূলের। তাঁদের মতে, বিষয়টিকে শুধুমাত্র “যান্ত্রিক ত্রুটি” বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তৃণমূলের তরফে কমিশনের কাছে সব স্ট্রং রুমের সিসিটিভি ফুটেজ এবং যে সময়গুলিতে সমস্যা হয়েছে সেই নির্দিষ্ট সময়ের রেকর্ডিং আলাদা করে চাওয়া হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর শহরের সাতটি স্ট্রং রুমের চারপাশে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছে কলকাতা পুলিশ। কমিশনার অজয় কুমার নন্দীর নির্দেশে স্ট্রং রুমের ২০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিছিল, বিক্ষোভ, অস্ত্র বহন এবং বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ৪ মে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।




















