রাজ্য – হকার উচ্ছেদ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের কড়া অবস্থানের বিরোধিতা করল Communist Party of India (Marxist)। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, “জোরজুলুম করে হকার সরানো চলতে পারে না।” কলকাতায় সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কোনও পুনর্বিন্যাস বা উচ্ছেদ করতে হলে হকারদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। একইসঙ্গে তৃণমূলকেও কটাক্ষ করে ‘পথে নামার’ পরামর্শ দেন তিনি।
শনিবার ও রবিবার দু’দিন ধরে সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানান মহম্মদ সেলিম।
হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই সেলিম বলেন, “যেভাবে মস্তান পাঠিয়ে জোর করে কাজ করানো হচ্ছে, সেটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। হকার সরাতে হলে আগে নির্দিষ্ট সময় দিতে হবে। নতুন কিছু করতে গেলে মানুষের প্রস্তুতির সময় লাগে।” তাঁর বক্তব্য, সরকার পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও তারা রাতারাতি বাস্তব বা ইতিহাস বদলে দিতে পারে না। অতীতেও এই ধরনের বিষয়ে সিপিএম একই অবস্থান নিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজ্য কমিটির বৈঠক নিয়ে সেলিম জানান, জেলা স্তর থেকেও নির্বাচনী ফলাফল ও সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়েছে। জুন মাস জুড়ে বুথ, অঞ্চল ও ওয়ার্ড স্তরে পর্যালোচনা চলবে। সেই সমস্ত মতামত সংগ্রহ করে আগামী আগস্টে বর্ধিত রাজ্য কমিটির বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করা হবে।
সাংবাদিক বৈঠকে All India Trinamool Congress-কেও তীব্র আক্রমণ করেন সিপিএম নেতা। তাঁর কটাক্ষ, “এত বৈভব, বন্দুক, বোমা আর রাজমহল একদিনে শেষ হয়ে গেল কীভাবে? এবার পথে নামুন। পথেই মানুষের আসল পরিচয় বোঝা যায়।”
মুখ্যমন্ত্রী এবং টলিউড তারকাদের একসঙ্গে রাস্তায় নামার প্রসঙ্গ টেনে সেলিম বলেন, “মানুষকেই ঠিক করতে হবে তারা কোন পথ বেছে নেবে।”
জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়েও কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারকেই নিশানা করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার তাদের রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই কাজ করছে। তবে এই শিক্ষানীতির ফলে শিক্ষা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে এবং গরিব ও সাধারণ মানুষের উপর তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।




















