রাজ্য – এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এ বার প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে কবিতাকেই বেছে নিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নিজের সমাজমাধ্যমে ‘আমি অস্বীকার করি’ শিরোনামে একটি কবিতা পোস্ট করে তিনি বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শাসকদের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। কবিতার প্রতিটি পঙ্ক্তিতে ফুটে উঠেছে এসআইআর ঘিরে মৃত্যু, ভয় এবং নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদ, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
রাজনীতিতে সরাসরি আক্রমণাত্মক ভাষার বদলে কবিতাকে প্রতিবাদের অস্ত্র করা অভিষেকের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী বলেই মনে করছেন অনেকেই। তৃণমূল নেতাদের প্রচলিত বক্তৃতায় যে ধরনের শব্দভান্ডার সচরাচর শোনা যায় না, সেই ধারালো, বাম-মনস্ক ও প্রতিবাদী শব্দবন্ধেই সাজানো তাঁর কবিতা। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, এসআইআর ইস্যুতে বৃহত্তর শাসক-বিরোধী জনতার কাছে পৌঁছতে কি সচেতনভাবেই সাহিত্যিক ভাষাকে মাধ্যম করলেন তিনি?
কবিতায় এসআইআর-এর জেরে প্রায় ১৫০ জনের মৃত্যুর অভিযোগ এবং অসংখ্য মানুষের হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজেকে তিনি ‘সাক্ষী’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এমন এক সাক্ষী, যিনি রাষ্ট্রের নামে চলা যন্ত্রণার নীরব দলিল বহন করছেন। বাম বা অতিবাম লেখালিখিতে যেভাবে রাষ্ট্রকে একটি ‘শোষণযন্ত্র’ হিসেবে দেখা হয়, অভিষেকের কবিতাতেও সেই সুর স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।
এই কবিতা প্রসঙ্গে অনেকের মনেই ফিরে আসছে কবি নবারুণ ভট্টাচার্যের সেই বিখ্যাত পঙ্ক্তি—‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’। নবারুণ যেখানে রাষ্ট্রীয় নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে ঘৃণার ভাষা খুঁজে নিয়েছিলেন, অভিষেক সেখানে ‘অস্বীকার’-এর শব্দকে সামনে রেখে রাষ্ট্রীয় দমননীতিকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর কবিতায় তিনি লিখেছেন, “আমি অস্বীকার করি—এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব। আমি অস্বীকার করি—রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি—রক্তের উপর কালির শাসন।”
রাজনীতির ময়দানে কবিতার এই প্রবেশ যে এসআইআর বিতর্ককে আরও ভিন্ন মাত্রা দিল, তা বলাই বাহুল্য। বক্তৃতা বা বিবৃতির বাইরে গিয়ে সাহিত্যিক প্রতিবাদের এই ভাষা আগামী দিনে রাজনৈতিক বার্তায় নতুন ধারা তৈরি করবে কি না, সে দিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।



















