রাজ্য – বাংলার ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এবার চর্চার কেন্দ্রে উঠে এল কবিতা। এসআইআর নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতাকে কটাক্ষ করে পাল্টা কবিতা লিখলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। রাজনৈতিক বিতর্ক যে এখন সাহিত্যিক রূপও নিচ্ছে, এই ঘটনাই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত।
সম্প্রতি সিঙ্গুরের এক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি এসআইআর বিষয়ক একাধিক কবিতা লিখেছেন এবং সেগুলি বই আকারে প্রকাশ করবেন। সভামঞ্চেই তিনি একটি কবিতা পাঠ করে শোনান। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মাত্র তিন দিনের মধ্যে তিনি ২৬টি কবিতা লিখেছেন, যার সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘স্যর’ বা ইংরেজিতে ‘SIR’। এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে কবিতা ঘিরে শুরু হয় আলোচনা।
মুখ্যমন্ত্রীর পর এবার কবিতার পথে হাঁটলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি সমাজমাধ্যমে ‘আমি অস্বীকার করি’ শিরোনামের একটি কবিতা পোস্ট করেন। কবিতার বিভিন্ন পংক্তিতে কেন্দ্রীয় নীতির সমালোচনা, রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বাংলার ক্ষেত্রে এসআইআর একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় এবং এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অভিষেক তাঁর কবিতায় অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর জেরে বহু মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। একটি পংক্তিতে তিনি লেখেন, “১৫০, এটা সংখ্যা নয়, এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলায় এই প্রক্রিয়ার কারণে দেড়শোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কবিতার ভাষায় প্রতিবাদ ও ক্ষোভের সুরই প্রাধান্য পেয়েছে, যা তৃণমূলের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন বলেই দাবি দলের।
এই কবিতাকে ঘিরেই পাল্টা ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লেখেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। অভিষেকের কবিতার ভাষা ও বক্তব্যকে কটাক্ষ করে তিনি নিজের কবিতার মাধ্যমে ‘সাবধানে থাকা’র বার্তা দিয়েছেন বলে বিজেপি সূত্রের দাবি। রাজনৈতিক ইস্যুতে কবিতার মাধ্যমে পাল্টা আক্রমণ নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
এসআইআর নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই কবিতাকে হাতিয়ার করে দুই শিবিরের এই পাল্টাপাল্টি বার্তা যে বিতর্ককে আরও তীব্র করবে, তা বলাই বাহুল্য।



















