পাঠ্যক্রমে নাচ-গান-আঁকা, নম্বর মিলবে বার্ষিক মূল্যায়নে—বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষা দফতরের

পাঠ্যক্রমে নাচ-গান-আঁকা, নম্বর মিলবে বার্ষিক মূল্যায়নে—বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষা দফতরের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – এবার শিক্ষা ব্যবস্থায় আসতে চলেছে এক অভিনব পরিবর্তন। এতদিন পর্যন্ত নাচ, গান বা আঁকার মতো সৃজনশীল চর্চা মূল পাঠক্রমের বাইরে সীমাবদ্ধ ছিল। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তো বটেই, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে বহু ছাত্রছাত্রীকে এই ধরনের চর্চা বন্ধ করতেও বাধ্য হতে হতো। মূল পড়াশোনার বাইরে এসব কার্যকলাপে বেশি সময় দেওয়াকে নিরুৎসাহিত করা হতো অনেক ক্ষেত্রেই।
তবে এবার সেই ছবিতে বদল আনতে চলেছে West Bengal School Education Department। দফতরের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে নাচ, গান, নাটক, আবৃত্তি এবং বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ। শুধু তাই নয়, বার্ষিক মূল্যায়নে এই কো-কারিকুলার কার্যকলাপের নম্বরও যুক্ত করা হবে। ফলে ছোট থেকেই পড়ুয়াদের বহুমুখী প্রতিভার বিকাশে গুরুত্ব দিতে চাইছে শিক্ষা দফতর।
দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর থেকেই প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এই নতুন ব্যবস্থা চালু হবে। বার্ষিক ফলাফলে একাডেমিক নম্বরের পাশাপাশি সৃজনশীল কার্যকলাপের প্রতিফলনও দেখা যাবে। এই সিদ্ধান্তে আশার আলো দেখছেন শিক্ষকেরা। তাঁদের মতে, পড়ুয়াদের সামগ্রিক বিকাশে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যম বেসরকারি স্কুলে আগেই এই ধরনের আলাদা ক্লাস ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা ছিল। সেখানে নাচ, গান বা নাটকের মতো বিষয় বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হয় এবং নম্বরও দেওয়া হয়। কিন্তু এতদিন রাজ্যের সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে সেই সুবিধা ছিল না। এবার রাজ্যের বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া স্কুলের মধ্যেই প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে বলে খুশি অভিভাবকেরাও।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক কীভাবে পাওয়া যাবে? দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ডিএলএড বা বিএড প্রশিক্ষণের সময় শিক্ষকেরা প্রাথমিকভাবে এই ধরনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ পান। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন। পাশাপাশি মার্কশিটে এই বিষয়গুলির নম্বর উল্লেখ থাকলে ভবিষ্যতে পড়ুয়াদের দক্ষতা চিহ্নিত করতেও সুবিধা হবে এবং তাদের আগ্রহের দিকটিও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।
শিক্ষাক্ষেত্রে এই নতুন উদ্যোগ রাজ্যের স্কুল শিক্ষায় এক নতুন দিশা দেখাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top