‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে বিজেপির ভোটের দামামা, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাইকোর্টের

‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে বিজেপির ভোটের দামামা, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাইকোর্টের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে তার আগেই কার্যত নির্বাচনী লড়াইয়ের সূচনা করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি-র রাজ্য শাখা। কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র অনুমতি দেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করে কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করেন শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে প্রকাশ্যে আনা হয় যাত্রার টিজার।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে কার্যত কোনও কার্যকর সরকার নেই। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রশাসন এক ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’-এর মতো। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করা, চাকরি বিক্রির মতো দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি। দুর্নীতিকে শাসকদলের সমার্থক বলেও মন্তব্য করেন। এই কর্মসূচিকে সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরে তিনি আহ্বান জানান—তৃণমূলের হতাশ কর্মী থেকে শুরু করে বাম ও কংগ্রেস সমর্থকরাও যেন এই যাত্রায় শামিল হন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের ‘হৃত গৌরব’ পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পাশাপাশি ধর্মীয় ভারসাম্য বদলে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যে। দেশজুড়ে ধরা পড়া জঙ্গিদের ভোটার কার্ড এই রাজ্যে তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় না হলে দেশের রাজনৈতিক লড়াই সম্পূর্ণ হবে না।
সুকান্ত মজুমদারও শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, এই যাত্রা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, পরিবর্তনের দাবিতে মানুষের মনোভাবের প্রতিফলন। এমনকি ভবানীপুরের মতো এলাকাতেও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভোটাধিকার ও গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে মানুষের সংশয় দূর করাই যাত্রার অন্যতম উদ্দেশ্য বলেও জানান।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, যাত্রার সমাপ্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বৃহৎ সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে। ব্রিগেড ময়দানে সভার জন্য মার্চ মাসের ১৩, ১৪ অথবা ১৫ তারিখ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। ১০ মার্চ যাত্রা শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই সভা করার লক্ষ্য রয়েছে দলের।
মোট ৯টি পৃথক যাত্রা আয়োজন করা হয়েছে। ১ ও ২ মার্চ থেকে শুরু হবে কর্মসূচি। প্রথম দিনে কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে যাত্রা শুরু হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসান ও আমতা থেকেও আরও চারটি যাত্রা বেরোবে। দোল উৎসবের কারণে ৩ ও ৪ মার্চ কোনও কর্মসূচি রাখা হয়নি। ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রমের লক্ষ্য নিয়েছে দল। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে যাত্রা নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ৬০টি বড় জনসভা ও প্রায় ৩০০টি ছোট সভা আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা এলাকায় আলাদা ট্যাবলো বের করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না। ১ থেকে ৬ মার্চের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে এবং শব্দবিধি সংক্রান্ত সমস্ত আইন মানতে হবে। কুরুচিকর বা উত্তেজনামূলক মন্তব্য করা যাবে না বলেও সতর্ক করেছে আদালত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে—এমন বক্তব্য বা কার্যকলাপ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। কর্মসূচির জেরে যানজট সৃষ্টি করা যাবে না এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে। অন্তত ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আগে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। সরকারি, বেসরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পত্তির কোনও ক্ষতি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকেই নিতে হবে বলেও নির্দেশে উল্লেখ রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top