রাজ্য – West Bengal Assembly Election 2026–এর আগে রাজ্যে ভোটার তালিকা ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রেখে তাঁদের নথি খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ওই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যে কোনও নির্বাচন করানো যাবে না—এই দাবিতে বুধবার রাত থেকেই ধর্নায় বসেছে সিপিএম। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত রয়েছেন বামফ্রন্টের রাজ্য সম্পাদক Mohammed Salim, নেত্রী Meenakshi Mukherjee–সহ একাধিক বাম নেতা।
শুক্রবার ধর্নার উত্তাপ আরও বাড়ে। এদিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক Manoj Agarwal–এর কাছে ডেপুটেশন জমা দিতে আসেন Naushad Siddique। একই দিনে সময় চেয়ে সিইওর কাছে ডেপুটেশন দেন ভরতপুরের বিধায়ক Humayun Kabir–ও। দলীয় কর্মী–সমর্থকদের নিয়ে তাঁরা সিইও দফতরে গিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
সিইও অফিসের সামনে সেলিম, নওশাদ ও হুমায়ুনের একসঙ্গে উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। অলিখিত কোনও জোট কি তৈরি হচ্ছে—এই প্রশ্ন উঠতেই মুচকি হাসেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, সেলিম, হুমায়ুন কবীর এবং নওশাদ যদি এক জায়গায় হন, তাহলে Mamata Banerjee–র রাতের ঘুম উড়ে যেতে পারে। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু দেখা যেতে পারে। সিইও অফিসের সামনে দেখা যাচ্ছে, আবার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ডিএম অফিসেও দেখা যেতে পারে। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যেই এই ধরনের যোগাযোগ থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি এখনও জোট চান এবং তাঁর দরজা খোলা রয়েছে।
এদিকে বামেদের অভিযোগ, ভুয়ো ভোটার সরানোর নামে কার্যত বৈধ ভোটারদেরই তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ধর্নামঞ্চ থেকে তোপ দেগে Meenakshi Mukherjee বলেন, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় ফেরাতে হবে। তাঁর প্রশ্ন, এতদিন কি Bharatiya Janata Party এবং All India Trinamool Congress বোঝাপড়া করে ভুয়ো ভোটারদের দিয়ে ভোট করিয়েছে? এখন পরিচ্ছন্ন তালিকার দোহাই দিয়ে প্রান্তিক মানুষের নাম কাটা যাবে কেন? তাঁর দাবি, শুধু সংখ্যালঘু নয়—মতুয়া, আদিবাসী এবং নিম্নবিত্ত মানুষের ওপরও এই প্রভাব পড়ছে।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক Mohammed Salim আরও কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান। তিনি প্রশ্ন তোলেন ‘বিচারাধীন’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, অপরাধী বা কয়লা চোরদের ক্ষেত্রে বিচারাধীন শব্দটি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সাধারণ অসহায় মানুষ কেন ভোটার তালিকায় বিচারাধীন হয়ে থাকবেন? অবিলম্বে এই ৬০ লক্ষ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, সিইও অফিসে ডেপুটেশন জমা দিয়ে Naushad Siddique জানান, একটি ইস্যুও অমীমাংসিত রেখে ভোট ঘোষণা করা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা ৬০ লক্ষ হোক বা ৭ লক্ষ—সব সমস্যার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা উচিত নয়।




















