রাজ্য – রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Elections 2026) আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ (EC Full Bench Meeting) প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—নির্বাচনের আগে কোনওভাবেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি মেনে নেওয়া হবে না। জেলাশাসক ও পুলিশ কর্তাদের কার্যত খোলাখুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশেই মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (CS Nandini Chakraborty) সব জেলাশাসকদের নবান্নে তলব করেন। বৈঠকে কমিশনের যাবতীয় নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, কাকে কী বলা হয়েছে, কাদের থেকে কী তথ্য নেওয়া হয়েছে, সবই জানতে চান মুখ্যসচিব। পাশাপাশি মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরগুলোর সত্যতা যাচাই করাও তার লক্ষ্য ছিল। কিছু জেলাশাসক মুখ্যসচিবকে নিশ্চিত করেছেন যে, “আজকের রাতের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে হবে” সংবাদটি সত্যি।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৪ জন জেলাশাসক মুখ্যসচিবকে কমিশনের নির্দেশ সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছেন। অ্যাডজুডিকেশন সংক্রান্ত তথ্য জুডিশিয়াল অফিসাররা যতোটা জানাচ্ছেন, ততটাই তারা পৌঁছে দিয়েছেন, যা তাদের ক্ষমতার বাইরে বেশি নয়। বাকি বৈঠকের নির্দেশনামা স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে মুখ্যসচিবকে।
এদিন বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পুলিশ কর্তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আজকের রাতের মধ্যেই বাংলায় কোনও বেআইনি অস্ত্র, বোমা, নগদ টাকা বা মদের কারবার চলবে না। ভোটের আগে যা বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন তা আজ রাতের মধ্যেই করতে হবে, কালকের জন্য কিছু ফেলে রাখার অনুমতি নেই।
রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি কমিশনের প্রশ্নের মুখে পড়েন এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েল। পশ্চিমবঙ্গে নার্কোটিক আইনের (Prevention of Illicit Traffic in Narcotic Drugs and Psychotropic Substances Act, 1988 (PITNDPS)) প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বিনীত গোয়েল বোঝানোর চেষ্টা করেন, যে আইন অনুযায়ী কাউকে আটক করতে একটি অ্যাডভাইজারি বোর্ড থাকা প্রয়োজন, তবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গেলে কমিশন কিছুটা বিরক্ত হয়।
সূত্রের খবর, কমিশনের ফুল বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অশান্তি কেন হয়েছে, যেখানে অন্য রাজ্যে এমন কিছু হয়নি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বৈঠকে আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এদিন স্পষ্ট অভিযোগ এনেছে, প্রাক ভোট ও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে। ভোটে যেন কোনও হিংসা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।




















