কলকাতা – কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED) ফের কয়লা পাচার মামলায় (Coal Smuggling Scam) রাজ্য পুলিশের আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান (ED Raid Durgapur) চালিয়েছে। বুধবার সকালেই দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছায় ইডির একটি দল। বাড়িটি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। অভিযান শুরুতেই গেটে হাজিরার নোটিস (ED Summon) লাগানো হয়। নোটিসে বলা হয়েছে, আগামী ১৩ মার্চ দুপুর ১২–১টার মধ্যে হাজিরা দিতে হবে। এটি মনোরঞ্জন মণ্ডলের তৃতীয় সমন। এর আগে দু’বার নোটিস পাঠানো হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেছেন।
আজ মনোরঞ্জন মণ্ডলের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তবে তিনি বাড়িতে উপস্থিত আছেন কি না তা জানা যায়নি। সূত্রে জানা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ইডির আধিকারিকরা উপস্থিত হয়। দু’দিন আগে তিনি ওসির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে তাঁকে ওসি পদ থেকে সরিয়ে স্পেশাল ব্রাঞ্চে বদলি করা হয়।
ইডি সূত্রে খবর, কয়লা পাচার মামলায় (Coal Smuggling Scam) প্রোটেকশন মানির (Protection Money) লেনদেনের সঙ্গে মনোরঞ্জন মণ্ডলের যোগ রয়েছে। অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের টাকা পাচার করতে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছিল তার মাধ্যমে। গত মাসেও তাঁকে দু’বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। এবারও হাজিরা এড়ালে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তদন্তকারীরা।
মনোরঞ্জন মণ্ডলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৪ সালে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তখনই কয়লা পাচার মামলার তদন্তের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। নবান্নে (Nabanna) এক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ‘কয়লা পাচার নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়। অথচ সিআইএসএফ এবং পুলিশের একাংশ টাকা খেয়ে কয়লা পাচারে সাহায্য করছে। আমি এটা বরদাস্ত করব না।’ এরপরই মনোরঞ্জন মণ্ডলকে বারাবনি থানার ওসি পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়।



















