ভোট ঘোষণার পর শীর্ষ আমলাদের বদলি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মমতা

ভোট ঘোষণার পর শীর্ষ আমলাদের বদলি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মমতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্যের প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পাঁচজন শীর্ষ অফিসারকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা এক চিঠিতে তিনি এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেন।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়। তাঁর দাবি, এমন পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের দীর্ঘদিনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্বের কথা উল্লেখ করলেও, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ মার্চ কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আমলাকে বদলি বা অন্যত্র পোস্টিং করা হয়েছে। এর মধ্যে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব (হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স), রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং আইজি-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা আধিকারিকরা রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ, অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ ছাড়াই এই ধরনের বড় মাত্রার রদবদল করা হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিভিন্ন ধারার প্রসঙ্গ টেনেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনের সময় সরকারি কর্মীরা কমিশনের অধীনে থাকেন এবং কমিশনের বদলি বা পোস্টিংয়ের ক্ষমতা রয়েছে। তবে অতীতে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনার রীতি অনুসরণ করা হতো বলে তাঁর দাবি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, পূর্বে কমিশন সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিনজন আধিকারিকের একটি প্যানেল চাইত এবং সেই তালিকা থেকে একজনকে নির্বাচন করা হতো। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শীর্ষস্তরের এই বদলি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ভোট ঘোষণার পর প্রশাসনিক রদবদলকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে। এই ইস্যু রাজ্যের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top