রাজ্য – পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশ এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহের কারণে আগামী কয়েকদিন পশ্চিমবঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি বাড়তে পারে। কলকাতায় আপাতত পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও জেলাগুলির দিকে ধেয়ে আসছে ঝোড়ো হাওয়া ও দমকা বৃষ্টি, যার প্রকৃতি অনেকটা কালবৈশাখীর মতো।
সোমবার সন্ধের পর রাজ্যের একাধিক জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে এবং ঘন ঘন বজ্রপাতের ঘটনাও দেখা গিয়েছে। আগেই এই পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে উপকূল ও মধ্যবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়ার পরিবর্তন স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গে ২১ মার্চ পর্যন্ত আবহাওয়া অস্থির থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ১৫ ও ১৬ মার্চ বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে। দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির প্রভাবে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা বড় না হলেও ঢালু রাস্তা এবং চা-বাগান এলাকায় কাজের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটতে পারে। ফলে প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যেই হলুদ এবং কোথাও কোথাও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, এবং কিছু এলাকায় ঝড়ের গতি ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বীরভূমের কিছু অংশে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আগামী সপ্তাহেও বীরভূম, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ঝড়-বৃষ্টির দাপট বজায় থাকতে পারে। ১৭ মার্চের পর দমকা হাওয়ার তীব্রতা কিছুটা কমলেও ২১ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত চলতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন, গাছ উপড়ে পড়া এবং কাঁচা বাড়িঘরের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে খোলা জায়গায় আশ্রয় না নিতে এবং আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা দফতর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।




















