রাজ্য – মহিলা ক্ষমতায়নের ওপর ফের জোর দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ঘোষিত ২৯১ জন প্রার্থীর তালিকায় এ বার ৫২ জন মহিলা টিকিট পেয়েছেন। আগের বিধানসভায় ৩৮ জন মহিলা বিধায়ক ছিলেন। সেই তুলনায় এ বার মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপে দলের সংগঠন ও নির্বাচনী কৌশলে নারীদের ভূমিকা আরও জোরালো করার ইঙ্গিত মিলেছে।
এবারের অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে এই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যায়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন আন্দোলন ও জনসমাবেশেও মহিলাদের উপস্থিতি লক্ষণীয়। প্রার্থী তালিকাতেও সেই প্রতিফলন স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে।
তালিকায় ৯৫ জন তপসিলি প্রার্থী এবং ৪৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী রয়েছেন। ফলে সামাজিক প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দলের দাবি। বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা অনুষ্ঠানে প্রথমেই ভিকট্রি সাইন দেখান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়েছে। এদিন তিনি রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের স্মরণ করেন। পাশাপাশি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে কমিশন বিজেপির প্রভাবে কাজ করছে বলে অভিযোগ ওঠে। বাঙালির অস্মিতা রক্ষার লড়াই বলে তিনি এই নির্বাচনকে উল্লেখ করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই নির্বাচনে তৃণমূল ২২৬টির বেশি আসন পাবে। তাঁর বক্তব্যে “ভোট ফর তৃণমূল, নো ভোট ফর বিজেপি” স্লোগানও উঠে আসে। সব মিলিয়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে দলীয় কৌশল, সামাজিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক বার্তা—সবকিছুই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



















