বিদেশ – ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট তীব্র আকার নিয়েছে। বিশেষ করে ছোট ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। রান্নার গ্যাসের ঘাটতি থেকে শুরু করে পেট্রল পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছে একাধিক দেশ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা সাপ্তাহিক ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি থাকবে। ফলে সপ্তাহে চার দিন সরকারি অফিস খোলা থাকবে।
দেশের নাগরিকদের আরও কঠিন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমার দিসানায়কে। তিনি বলেছেন, খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, তবে আশা বজায় রাখতে হবে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ জ্বালানি সাশ্রয় ও ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই নেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সংঘর্ষের পর থেকেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কায় সপ্তাহে চার দিন স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকবে। তবে হাসপাতাল, পুলিশ ও অভিবাসন বিভাগের মতো জরুরি পরিষেবা সচল থাকবে। সরকার বুধবারকে ছুটির দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে, যাতে টানা তিন দিনের দীর্ঘ বন্ধ এড়ানো যায়। পাশাপাশি তেলের ক্ষেত্রে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। জাতীয় জ্বালানি পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে গাড়িচালকদের জন্য। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ১৫ লিটার এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৫ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সব মিলিয়ে জ্বালানি সঙ্কটের চাপ সামাল দিতে শ্রীলঙ্কা প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।




















