রাজ্য – মঙ্গলবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তৃণমূলের ২৯১টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হয়। একই দিন রাজ্য মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের অফিসে যান তৃণমূলের একটি প্রতিনিধিদল। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পার্থ ভৌমিক এবং মহুয়া মৈত্র রাজ্য কমিশনের দপ্তরে গিয়ে একাধিক বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বৈঠকে ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি এবং সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হচ্ছে না—এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭,০৪,৫৯,২৮৪। কিন্তু ১৫ মার্চ কমিশনের নির্দেশিকায় বাংলায় ভোটারের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬,৪৪,৫২,৬০৯। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি বলে তাঁর অভিযোগ। প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার এখনও বিচারাধীন থাকলেও এত বড় পরিবর্তন কীভাবে হল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, বিচারাধীন ভোটারদের নাম বাদ গেলে বিভ্রান্তি আরও বাড়তে পারে।
চন্দ্রিমার দাবি, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে বিচারাধীন ভোটারদের যাচাই চলাকালীন নিয়মিতভাবে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলেও সেই তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং তাঁরা নিজেদের বর্তমান অবস্থান বুঝতে পারছেন না। পাশাপাশি, বাদ পড়া ভোটাররা আপিল ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে পারছেন না বলে তাঁর বক্তব্য।
কমিশনের কাছে তৃণমূলের তরফে তিনটি দাবি পেশ করা হয়েছে। প্রথমত, সঠিক মোট ভোটার সংখ্যা ৭,০৪,৫৯,২৮৪ প্রতিফলিত করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে এবং সংযোজন বা অপসারণের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিচারাধীন ভোটারদের নাম সম্বলিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়া নিয়মিত ও সময়মতো চালু রাখতে হবে। তৃতীয়ত, নাম বাদ পড়া ভোটারদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু করে স্বচ্ছতা ও বিকল্প প্রতিকারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।




















