রাজ্য – ভোট শেষ মানেই দায়িত্ব শেষ নয়—এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল Election Commission of India। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন মিটলেও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অন্তত এক মাস ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিজ্ঞতা থেকেই এ বার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন। এই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছে Ministry of Home Affairs-ও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সময়সীমা এবং বাহিনীর পরিমাণ—দুই দিক থেকেই এই পদক্ষেপ নজিরবিহীন।
এ বার ভোটের অনেক আগেই দুই দফায় ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিলের মধ্যে আরও পাঁচ দফায় মোট ১৯২০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪৮ কোম্পানি বিভিন্ন রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী—হরিয়ানা, বিহার, উত্তরাখণ্ড, অসম, পাঞ্জাব, গোয়া ও রাজস্থান-সহ একাধিক রাজ্য থেকে আসছে।
কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ধাপে ধাপে প্রায় ১৭০০ কোম্পানি বাহিনী ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তবে বাকি ৫০০ কোম্পানি অন্তত এক মাস রাজ্যে থেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এ বার নতুন সংযোজনও করা হয়েছে। শুধুমাত্র রুট মার্চ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের হাতে থাকবে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও সচেতনতামূলক বার্তা। ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে এবং শান্তি বজায় রাখতে কীভাবে সহযোগিতা করবেন, সেই বার্তাও লিফলেটের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কমিশনের মূল লক্ষ্য হিংসামুক্ত ও রক্তপাতহীন নির্বাচন নিশ্চিত করা। অতীতে পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে খুন, খুনের চেষ্টা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং যার তদন্ত এখনও আদালতের নির্দেশে চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই আগাম সতর্কতা হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও ভোট-পরবর্তী উপস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেই এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে Election Commission of India।




















