দিল্লী – মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম দিল্লি সফরে গেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার রাজধানীতে একাধিক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় শুভেন্দু অধিকারী তাঁর হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি বিশেষ ছবি তুলে দেন। সেই ছবিতে লেখা ছিল ‘বন্দেমাতরম’। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকে পুষ্পস্তবকও উপহার দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই উপহার প্রতীকী দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর বিদেশ সফরে চলে যান প্রধানমন্ত্রী। দেশে ফেরার পর শুক্রবারই তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
সাধারণত বিজেপির সাংগঠনিক রীতি অনুযায়ী, কোনও রাজ্যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দিল্লিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই সঙ্গে নিজের রাজ্যের বিভিন্ন দাবি-দাওয়াও কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরেন। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরও সেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
সূত্রের খবর, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর গত ১০ দিনে তাঁর সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলির কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তারই বিস্তারিত রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে প্রশাসনিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় বৈঠকে উঠে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার দিল্লি সফরে প্রথমেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বা বিএসএফের হাতে ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করেছে। সীমান্তে কাঁটাতারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতেই এই জমি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যেহেতু বিএসএফ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে কাজ করে এবং সীমান্ত সুরক্ষার সঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষাও জড়িত, তাই এই বিষয়টি নিয়ে অমিত শাহ এবং রাজনাথ সিংহের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর বিস্তারিত আলোচনা হয়ে থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকেও সীমান্ত নিরাপত্তা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের একাধিক বিষয় উঠে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম দিল্লি সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।



















