রাজ্য – বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। বিরোধী শিবিরের বিধায়কদেরও এবার সরকারি প্রশাসনিক পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। সেই আবহেই বেলেঘাটার ঐতিহ্যবাহী বিধানচন্দ্র রায় শিশু হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
সূত্রের খবর, শুধু কুণাল ঘোষই নন, তৃণমূলের আরও একাধিক বিধায়ককে তাঁদের এলাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নতুন প্রশাসন। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
প্রশ্ন উঠেছিল, নতুন সরকারের এই প্রস্তাব আদৌ গ্রহণ করবেন কি না বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করতে প্রস্তুত।
এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “বিধানচন্দ্র শিশু হাসপাতাল বেলেঘাটার একটি ঐতিহ্যশালী শিশু হাসপাতাল। এলাকার বিধায়ক হিসেবে হাসপাতালের পরিষেবা ও উন্নয়নের বিষয়ে খোঁজ রাখা আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তাই রোগী কল্যাণ সমিতিতে সদস্য হওয়ার প্রস্তাব আমি গ্রহণ করব।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ অতীতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ।
২০১৭ সালে তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ থাকাকালীন তাঁকে ‘কলকাতা টেলিফোনস’-এর উপদেষ্টা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। সেই সময় মুকুল রায় সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং কুণাল ঘোষকেও দলে আনার চেষ্টা চলছিল বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা ছিল। কিন্তু সেই সময় কেন্দ্রের প্রস্তাব বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রশাসনিক বিভিন্ন কমিটি, বৈঠক বা সরকারি পরিকাঠামোয় বিরোধী দলের বিধায়কদের খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হত না বলে অভিযোগ ছিল। জেলা প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শুরু করে সরকারি হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতি—সব ক্ষেত্রেই বিরোধী প্রতিনিধিদের অনেকসময় দূরে রাখা হতো বলে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীরা অভিযোগ করে এসেছে।
তবে ২০২৬ সালে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে বিরোধী বিধায়কদেরও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত করার বার্তা দিতে চাইছেন, কুণাল ঘোষকে এই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
এখন নজর, কুণাল ঘোষের পথ অনুসরণ করে তৃণমূলের অন্য বিধায়করাও নতুন সরকারের এই প্রশাসনিক সৌজন্য গ্রহণ করেন কিনা।



















