রাজ্য – রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক তৃণমূল নেতা ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। এবার গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পার্থ বর্মা। শুক্রবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে লেকটাউন থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পার্থ বর্মার বিরুদ্ধে ২০২১ সালে একটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের দোকানে ভাঙচুরের অভিযোগ ছিল। পাশাপাশি এলাকার হকারদের কাছ থেকে তোলাবাজির অভিযোগও ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। এই দুই মামলার ভিত্তিতেই শুক্রবার কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে স্থানীয় একটি হোমিওপ্যাথি দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পার্থ বর্মার নাম উঠে আসে। দোকানের মালিক পি. সি. প্রসাদ সেই সময় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তবে অভিযোগ, ওই সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি আবার এলাকায় হকারদের কাছ থেকে জোর করে টাকা তোলার অভিযোগ সামনে আসতেই পুরনো মামলাগুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ।
অন্যদিকে, প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী তথা তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ আরও এক কাউন্সিলরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃত কাউন্সিলরের নাম সম্রাট বড়ুয়া। তাঁর বিরুদ্ধেও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই নিয়ে দেবরাজ ঘনিষ্ঠ মোট তিনজন কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হলেন।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোট-পরবর্তী হিংসা, তোলাবাজি, মারধর এবং ভাঙচুর-সহ একাধিক মামলায় তৃণমূলের বহু নেতা ও কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় একাধিক জনপ্রতিনিধিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুরনো অভিযোগগুলিকে নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই আবহেই এবার তাঁর ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর পার্থ বর্মার গ্রেপ্তারি নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়াল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।




















