রাজ্য – যে কণ্ঠ একসময় তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণে সরব ছিল, সেই কণ্ঠই এবার শাসক দলের হয়ে সওয়াল তুলবে—এই নাটকীয় পালাবদলেই রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছেন প্রতীক উর রহমান। দলবদলের পর তাঁকে মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়ায় স্পষ্ট, রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন কৌশল নিয়েছে All India Trinamool Congress।
প্রায় ২০০৮ সাল থেকে Communist Party of India (Marxist)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন প্রতীক উর রহমান। সংগঠনের ভাল-মন্দ দুই সময়েই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বারবার তৎকালীন শাসক তৃণমূল সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর ঝাঁজালো বক্তব্যে তৃণমূলের নানা পদক্ষেপের সমালোচনা উঠে এসেছে বারবার।
দলের ভরসাযোগ্য মুখ হিসেবেই তাঁকে একাধিক নির্বাচনে প্রার্থীও করা হয়েছিল। জেলা ও রাজ্য কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সিপিএমের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে দল ছাড়েন তিনি। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তৃণমূলে যোগ দেন, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
অনেকের ধারণা ছিল, আসন্ন West Bengal Election 2026-এ তাঁকে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল। যদিও সেই জল্পনা সত্যি হয়নি। পরিবর্তে তাঁকে দেওয়া হয়েছে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত দায়িত্ব—দলের মুখপাত্র পদ। জানা যাচ্ছে, প্রচলিত সাংবাদিক বৈঠকের পাশাপাশি বিভিন্ন ইস্যুতে দলের অবস্থান তুলে ধরতে এবং জনমতের লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাবে তাঁকে।
তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজের অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। সামাজিক মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে দলের উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসাও করেছিলেন। তবে তা ছিল ব্যক্তিগত স্তরে, এবার সেই ভূমিকা পেল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
সব মিলিয়ে, বাম শিবির থেকে উঠে আসা এক নেতাকে মুখপাত্র করে তৃণমূল যে বার্তা দিতে চাইছে, তা স্পষ্ট—বিরোধী ঘরানার কণ্ঠকেও নিজেদের পক্ষে টেনে এনে রাজনৈতিক শক্তি আরও মজবুত করা। আর প্রতীক উর রহমানের ক্ষেত্রে, এটি নিঃসন্দেহে এক নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা।




















