ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে বাড়ছে অস্বস্তি, বিদ্রোহ সামলাতে কালীঘাটে তিন বিধায়ককে ডাকলেন মমতা

ভোটে ভরাডুবির পর তৃণমূলে বাড়ছে অস্বস্তি, বিদ্রোহ সামলাতে কালীঘাটে তিন বিধায়ককে ডাকলেন মমতা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সুর। পুনর্নির্বাচন এবং ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে জাহাঙ্গির খানের অবস্থানকে কেন্দ্র করে দলের ভিতরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয় দলের তিন বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা কালীঘাটে যান। সেখানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। যদিও বৈঠকের পর জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচন। তার আগে মঙ্গলবার ছিল প্রচারের শেষ দিন। ঠিক সেই দিনই জাহাঙ্গির খান ঘোষণা করেন যে, তিনি এই নির্বাচনে লড়ছেন না। তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।
দলীয় বৈঠকে সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে কুণাল ঘোষ নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাও প্রতিবাদের সুর চড়ান।
নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই আঙুল তোলেন কয়েকজন নেতা বলে দলীয় সূত্রে খবর। জাহাঙ্গির খানকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নেতা’ বলেও কটাক্ষ করেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। পাশাপাশি শুধুমাত্র ঘরোয়া বৈঠকের মধ্যে আলোচনা সীমাবদ্ধ না রেখে সকলকে খোলাখুলি মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার দাবিও তোলেন কুণাল ঘোষেরা।
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, দলের নেতৃত্ব নিয়ে কারও কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। কিন্তু সেই বার্তার পরও অসন্তোষ থামেনি বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা। মঙ্গলবারের বৈঠকে কুণাল, ঋতব্রত ও সন্দীপনের অবস্থান থেকেই সেই ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরের বিদ্রোহ ও অস্বস্তি সামাল দিতেই বুধবার কালীঘাটে তিন বিধায়ককে ডেকে পাঠানো হয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এখন নজর থাকবে, জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে তৃণমূল নেতৃত্ব আগামী দিনে কী পদক্ষেপ নেয় এবং দলের ভিতরের এই অসন্তোষ কতটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top