রাজ্য – ফলতা উপনির্বাচনের আগে প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। কালীঘাটে অনুষ্ঠিত পরিষদীয় দলের বৈঠকে কয়েকজন বিধায়ক নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে সরব হন। আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে ফলতার প্রাক্তন প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এবং সেই সূত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভূমিকা।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সরাসরি জাহাঙ্গির প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তাঁদের প্রশ্ন ছিল, ভোটের ঠিক আগে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর পরেও কেন জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে দল এখনও পর্যন্ত কোনও কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্রের দাবি, জাহাঙ্গিরের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নেতৃত্বের দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হওয়ায় রাজনৈতিক বার্তা এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি নিয়েও আলোচনা হয়। সংগঠনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েও কিছু সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও খবর।
সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করে জানান যে, জাহাঙ্গির খানের ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও দলের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে একই বার্তা দেওয়া হয়েছিল।
তবে সেই ব্যাখ্যার পরেও কুণাল ঘোষ সংগঠনের ভিতরে আরও খোলামেলা আলোচনা এবং মত প্রকাশের সুযোগ থাকা প্রয়োজন বলে মত দেন। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র ঘরোয়া বৈঠকে সীমাবদ্ধ না থেকে রাজনৈতিকভাবে আরও সক্রিয়ভাবে মানুষের মধ্যে পৌঁছনো দরকার।
ঘটনাচক্রে, দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে যে এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কোনও ক্ষোভ বা অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পথ অনুসরণ না করে বৈঠকের মধ্যেই কয়েকজন সদস্য সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বলে দাবি।
ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়েছিল। এবার জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সেই প্রসঙ্গও ফের সামনে এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে কোনও আনুষ্ঠানিক মতবিরোধ বা দ্বন্দ্বের কথা স্বীকার করা হয়নি। তবে ফলতা ইস্যু যে দলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।




















