নোটিস ইস্যুতে প্রথমবার মুখ খুললেন অভিষেক, সংগঠন ধরে রাখার বার্তা তৃণমূলের বৈঠকে

নোটিস ইস্যুতে প্রথমবার মুখ খুললেন অভিষেক, সংগঠন ধরে রাখার বার্তা তৃণমূলের বৈঠকে

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – ক্ষমতা হারানোর পরও সংগঠন গুছিয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার বার্তা দিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল থেকে শুরু করে সংগঠনের অবস্থান— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই কলকাতা পুরনিগমের পাঠানো নোটিস নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে অবস্থান জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিনভর রাজনৈতিক জল্পনার পর পরিষদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রের দাবি, বৈঠকে তাঁর সম্পত্তি সংক্রান্ত কলকাতা পুরনিগমের নোটিসের প্রসঙ্গ ওঠে। সেই সময় অভিষেক স্পষ্ট বার্তা দেন যে প্রশাসনিক পদক্ষেপে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলাবে না।
বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর বাড়িতে নোটিস পাঠানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাতে তিনি রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে আসবেন না। বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বৈঠকে দলের নেতাদের উদ্দেশে ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আশাবাদী বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থান বদলাবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতা পুরনিগমের নজরে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়। পুরসভার পরিদর্শক দল তাঁর হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’ এবং কালীঘাটের একটি সম্পত্তি পরিদর্শন করে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সেখানে কিছু অনুমোদনবিহীন নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না হলে পুরনিগম নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে এই ইস্যুতে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সরাসরি দূরত্ব বজায় রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে আলাদা করে কিছু জানানো হয়নি। পাশাপাশি তিনি জানান, কোন নির্মাণ আইনবহির্ভূত এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিভাগ ও কমিশনারের এখতিয়ার।
এদিনের বৈঠকে রাজনৈতিক অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে ফলতা কেন্দ্র নিয়েও আলোচনা। স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গিরের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সূত্রের খবর, কয়েকজন বিধায়ক জানতে চান এই সিদ্ধান্ত দলীয় স্তরে আলোচনা করে নেওয়া হয়েছিল কি না। দলের ভাবমূর্তি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় বৈঠকে।
যদিও জাহাঙ্গির ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে বৈঠকের আলোচনায় স্পষ্ট, বিরোধী আসনে থেকেও সংগঠন ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এখন দলের প্রধান অগ্রাধিকার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top