রাজ্য – রাজনীতির চাকা যেমন ঘোরে, তেমনই ফিরে আসে পুরনো নামও— আর সেই চেনা ছবিই যেন আবার দেখা গেল বাম রাজনীতির অন্দরে। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে মেদিনীপুরের কেশপুর-গড়বেতা অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তাপের সময়ে যাঁর নাম বারবার উঠে আসত তপন ঘোষ-এর, সেই প্রাক্তন স্কুলশিক্ষককেই ফের নির্বাচনী ময়দানে নামাল Communist Party of India (Marxist)। সোমবার Alimuddin Street থেকে প্রকাশিত বামফ্রন্টের তৃতীয় দফার ১৫ জনের প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চিত নাম এখন তিনিই।
গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের লড়াইয়ে বামেদের তুরুপের তাস হিসেবে দেখা হচ্ছে তপন ঘোষকে। তবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ নিঃসন্দেহে বিতর্কহীন নয়। ছোট আঙারিয়া কিংবা নন্দীগ্রামের গোকুলনগরের মতো একাধিক ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে অতীতে। ছোট আঙারিয়ার সেই রক্তাক্ত অধ্যায় এখনও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত, যেখানে বক্তার মণ্ডলের বাড়িতে হামলার অভিযোগে সিবিআই তদন্ত পর্যন্ত গড়িয়েছিল বিষয়টি। আইনি লড়াইয়ের পর অনেকটাই সময় পেরোলেও, নন্দীগ্রাম পর্বে গ্রেপ্তারি ও চার্জশিটে নাম থাকা নিয়ে বিতর্ক এখনও তাঁকে ছায়ার মতো অনুসরণ করে।
২০১১ সালের পরিবর্তনের পর সুকুর আলি নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিলেও তপন ঘোষ সংগঠনের কাজে সক্রিয় ছিলেন বলেই দলীয় মহলের দাবি। এবার সেই অভিজ্ঞতার উপরেই আস্থা রেখেছে দল, এবং গড়বেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তাঁকেই সামনে আনা হয়েছে।
তবে এবারের প্রার্থী তালিকা শুধু গড়বেতাতেই সীমাবদ্ধ নয়, নজর কেড়েছে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গের সিতাই এবং কলকাতার শ্যামপুকুর আসনে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে চোপড়া, ইসলামপুর, ললগোলা থেকে এন্টালি— বিভিন্ন কেন্দ্রে সিপিএম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন ভাটপাড়ার আসনারায়ণ সিং এবং ফলতার শম্ভু কুর্মি। পাশাপাশি মহিলা প্রার্থীদের মধ্যে শ্যামপুকুরের ঝুমা দাস ও চন্দ্রকোনার সুপর্ণা দলুইয়ের নামও আলোচনায় উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রার্থী নির্বাচনে বামফ্রন্টের মধ্যে একটি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত স্পষ্ট। দীর্ঘ ৩৪ বছরের শাসনকালে সিপিএমের বিরুদ্ধে শরিক দলগুলির প্রতি ‘বড়দা’সুলভ আচরণের অভিযোগ বারবার উঠেছিল। কিন্তু গত কয়েকটি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য না পাওয়ার পর এবার অনেকটাই নমনীয় মনোভাব দেখা যাচ্ছে আলিমুদ্দিনে। উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল— সব ক্ষেত্রেই শরিকদের দাবিদাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিমান বসু-র নেতৃত্বে এবারের আসন সমঝোতা যে অনেক বেশি মসৃণ হয়েছে, তা প্রার্থী তালিকাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে স্পষ্ট, পুরনো মুখের প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৌশলগত বদলের পথেই হাঁটছে বাম শিবির।




















