রাজ্য – ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থেকে শুরু করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভা থেকে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, বিজেপিকে এবার ৫০-এর নিচে নামানোই লক্ষ্য। তাঁর কথায়, এই নির্বাচন বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার নির্বাচন এবং মানুষের রায়েই তা প্রমাণিত হবে।
সভামঞ্চ থেকে বঞ্চনার ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, গরিবের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র, আবাস যোজনা এবং ১০০ দিনের কাজের অর্থ এখনও বকেয়া। পাশাপাশি গত পাঁচ বছরে রাজ্যের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য পাকা বাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তারা নিজেদের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড দেখাতে পারছে না।
এই জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বার্তা দেন, “আমরা যতদিন আছি, কারও ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না কেউ।” তিনি আরও বলেন, অন্য দল প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু তৃণমূল প্রতিজ্ঞা করে। তাঁর দাবি, এই প্রচার শুরু হল পাথরপ্রতিমা থেকে, যা শেষ হবে ডায়মন্ড হারবার-এ।
তৃণমূল শিবিরে এই সভাকে ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। কয়েকদিন ধরেই বুথে বুথে প্রস্তুতি চলছিল, ছোট ছোট কর্মীসভা করা হয়েছিল জনসভা সফল করতে। প্রবল বৃষ্টিতে মাঠ জলমগ্ন হয়ে পড়লেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তা দ্রুত ঠিক করা হয়। মঞ্চের কাছে তৈরি করা হয় হেলিপ্যাড, সেখানেই হেলিকপ্টারে এসে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিরাপত্তার দিকেও ছিল কড়া নজর, প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার হেলিকপ্টার মহড়াও চালানো হয়।
এই জনসভায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়েছিল শাসক দল। পাথরপ্রতিমা দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখানকার প্রার্থী তিনবারের বিধায়ক সমীর কুমার জানা, যিনি চতুর্থবারের জন্য লড়াই করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই কেন্দ্রে বিরোধীদের প্রভাব খুবই কম, ফলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তৃণমূলের অবস্থান যথেষ্ট মজবুত।
সব মিলিয়ে, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এই জনসভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে পৌঁছেছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এবং উন্নয়নের বার্তা সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস।



















