রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এর মধ্যেই একজন পুলিশ পর্যবেক্ষককে ঘিরে উঠেছে গুরুতর বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস-এর অভিযোগ, বিহারের এক বিজেপি নেত্রীর স্বামীকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ করা হয়েছে, যা নিয়ে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শাসক দল।
মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক। সেখানেই মালদহের চারটি কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্ত এবং তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করা হয়। কিছু ছবিতে তাঁকে বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী-এর সঙ্গেও দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়। এরপরই তৃণমূলের প্রশ্ন, বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা কীভাবে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
মালদহ জেলার মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগর—এই চারটি সীমান্তবর্তী কেন্দ্রে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জয়ন্ত কান্তকে। এই প্রসঙ্গে ব্রাত্য বসু বলেন, এই এলাকাগুলি বিহার সীমান্ত সংলগ্ন এবং ওই আধিকারিকের স্ত্রীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
তৃণমূলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জয়ন্ত ২০০৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। তাঁর বাড়ি উত্তরপ্রদেশে হলেও কর্মস্থল বিহারে। ব্রাত্য বসু আরও বলেন, অন্য যাঁদের পর্যবেক্ষক হিসেবে আনা হয়েছে, তাঁদের আত্মীয়দের রাজনৈতিক পরিচয়ও খতিয়ে দেখা উচিত।
এদিকে সোমবার একটি বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে একসঙ্গে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র জানান, রাজ্য নির্বাচন আধিকারিকের প্রস্তাব খতিয়ে দেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। নবনিযুক্ত আধিকারিকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় যোগদান ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই বিষয়েই উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তিনি বলেন, “কমিশন কাদের কথায় চলছে তা বোঝাই যাচ্ছে। ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছে ভবানীপুরে। এসআইআরই শেষ করবে বিজেপিকে।”




















