ধূপগুড়িতে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক অভিষেকের, বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের

ধূপগুড়িতে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক অভিষেকের, বিজেপিকে নিশানা তৃণমূলের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


জলপাইগুড়ি – জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িকে ঘিরে ফের তুঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই। পরিবর্তনশীল ভোটের অঙ্কই এবার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে All India Trinamool Congress-এর সামনে। উপনির্বাচনে জয়ের পর লোকসভায় পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আসন্ন বিধানসভা ভোটে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন Abhishek Banerjee। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে জনসভা থেকে সরাসরি আক্রমণ শানালেন Bharatiya Janata Party-র বিরুদ্ধে।
ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চিত্রে একাধিক ওঠানামা দেখা গিয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র দখল করে বিজেপি। এরপর ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে প্রায় ৪ হাজার ভোটে জয় পায় তৃণমূল প্রার্থী নির্মলচন্দ্র রায়। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার ছবিটা বদলে যায়—প্রায় ৬,৩৭২ ভোটে এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী জয়ন্তকুমার রায়।
এই পটভূমিতেই ফণীর মাঠে জনসভা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাংলায় পরাজিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, যদি আবার বিজেপি জয়ী হয়, তবে সেই নীতিকেই সমর্থন করা হবে। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল শুধু জেতা এলাকায় নয়, হারা এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন করেছে।
জলপাইগুড়ি জেলার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ ও মাল—এই তিনটিতে ইতিমধ্যেই শক্ত অবস্থানে রয়েছে তৃণমূল। ধূপগুড়িতে জয়ের লক্ষ্যেই উন্নয়নকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কলেজ নির্মাণ, বানারহাটে হিন্দি কলেজ, কৃষক বাজার, নতুন দমকল কেন্দ্র এবং মহকুমা হাসপাতালের শয্যা বৃদ্ধির মতো প্রকল্পের উল্লেখ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের আগে ধূপগুড়িকে আলাদা মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, যা জয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই বাস্তবায়িত হয়। তবে লোকসভায় পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে তিনি “ভুল তথ্য প্রচার” এবং ভোটারদের বিভ্রান্তিকেই দায়ী করেন।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক প্রকল্পের অর্থ আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একশো দিনের কাজ বা আবাস যোজনার টাকা বন্ধ রেখে বিজেপি কীভাবে ভোট চাইবে। পাশাপাশি SIR ইস্যুতে ভোটারদের হয়রানির প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি, যা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন।
সব মিলিয়ে, ধূপগুড়িকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক লড়াই যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। উপনির্বাচনের জয় ধরে রাখা নয়, বরং লোকসভায় হারানো জমি পুনরুদ্ধার করাই এখন তৃণমূলের মূল লক্ষ্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top