কলকাতা – R. G. Kar Medical College and Hospital-এ লিফট বিপর্যয়ে মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত তিন লিফটম্যানই ঘটনাদিনে মদ্যপ অবস্থায় ডিউটিতে ছিলেন। লালবাজারের গোয়েন্দাদের জেরায় তারা স্বীকার করেছে, বাইরে থেকে মদ্যপান করেই হাসপাতালে কাজে যোগ দিয়েছিল। ফলে ভোররাতে নাগেরবাজারের অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে লিফটে বিপদের মুখে পড়লেও, কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে তা বুঝতেই পারেনি তারা।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, লিফটের তালা ভেঙে বেসমেন্টে পৌঁছালে অনেক আগেই তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল। কিন্তু মদ্যপ অবস্থায় থাকার কারণে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় ছিল না লিফটম্যানরা। এমনকী জেরার মুখে তারা জানিয়েছে, প্রায়শই তারাই নয়, আরও অনেক লিফটম্যান মদ্যপ অবস্থায় ডিউটিতে আসতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অন্তত দু’জন লিফটম্যান স্বীকার করেছে যে তারা এতটাই মদ্যপান করেছিল যে দাঁড়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিল না। তারা ঘুমিয়ে পড়েছিল। অন্যজন সাততলার একটি ঘরে বসে মোবাইলে গান শুনছিল। সেই কারণেই যখন অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমল বন্দ্যোপাধ্যায় ছেলেকে ও পুত্রবধূকে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছিলেন, তখন তাদের কানে সেই আর্তি পৌঁছায়নি। বরং ঘুম জড়ানো অবস্থায় ‘এখন কিছু করা যাবে না’ বলে জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্রমা কেয়ার ভবনের প্রতিটি লিফটের জন্য আলাদা লিফটম্যান নিযুক্ত ছিল এবং রাত দশটা থেকে তাদের ডিউটি শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার দিন ১৯ মার্চ সন্ধ্যার পর থেকেই তারা বাইরে বিভিন্ন জায়গায় বসে মদ্যপান করছিল। পরে আলাদা আলাদাভাবে রাত দশটার সময় হাসপাতালে ঢুকে নিজেদের দায়িত্ব নেয়।
গোয়েন্দারা হাসপাতালের প্রায় ৭০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। তাতে দেখা গিয়েছে, রাত বারোটা পর্যন্ত তারা লিফটের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছিল, কিন্তু লিফটের ভিতরে নিয়মমাফিক উপস্থিত ছিল না। রাত বারোটার পর থেকে আর কোনও লিফটম্যানকে লিফটের কাছাকাছি দেখা যায়নি।
এই ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে তদন্ত এগোচ্ছে। লালবাজারের গোয়েন্দারা এখন খতিয়ে দেখছেন, ওই লিফটম্যানরা ঠিক কোথায় কোথায় গিয়ে মদ্যপান করেছিল। সেই সব জায়গায় গিয়ে প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মোবাইলের তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিল, তাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এই ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, যা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।



















