কলকাতা – ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ভাঙড়। বৃহস্পতিবার রাতে All India Trinamool Congress ও Indian Secular Front-এর সংঘর্ষে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, গাড়ি ভাঙচুর—সব মিলিয়ে রাতভর অশান্তির চিত্র ধরা পড়ে।
অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাবতলা এলাকায় আইএসএফ প্রার্থী Naushad Siddiqui-র একটি সভা ছিল। সেই সভা থেকে ফেরার সময় আইএসএফ কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার জন্য এলাকার তৃণমূল নেতা খইরুল ইসলামের অনুগামীদের দায়ী করেছে আইএসএফ।
এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাকাপোলের কাছে একটি গ্যারেজে রাখা খইরুল ইসলামের মাটি কাটার যন্ত্র ও একটি পিক-আপ ভ্যান লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগ ওঠে আইএসএফ কর্মীদের বিরুদ্ধে। শুরু হয় ব্যাপক ভাঙচুর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পোলেরহাট থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও দীর্ঘক্ষণ এলাকায় অবস্থান করেন নওশাদ সিদ্দিকি এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশের সঙ্গেও তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় বলে জানা গিয়েছে।
নওশাদের দাবি, ভাঙড়ে আইএসএফের সভায় ব্যাপক জনসমাগম দেখে তৃণমূল শিবির চাপে পড়েছে, আর সেই কারণেই হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগে প্রশাসন কেন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশের ভূমিকাতেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী Shaukat Molla। তাঁর পাল্টা দাবি, নওশাদ সিদ্দিকির উসকানিতেই এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। শওকতের কথায়, “ভাঙড়ে আরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছেন নওশাদ। মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই এই নোংরা রাজনীতি করছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনকে উপেক্ষা করে নওশাদ নিজে উপস্থিত থেকে এই সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি করেছেন। পাশাপাশি নওশাদের গ্রেপ্তারির দাবিও তোলেন তিনি।
উল্লেখ্য, বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত—প্রতিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেই ভাঙড় হিংসার সাক্ষী থেকেছে। মনোনয়ন জমা দেওয়া থেকে ভোটগণনা—বারবার রক্তাক্ত ঘটনার নজির রয়েছে এই অঞ্চলে। আসন্ন নির্বাচনেও কি সেই চেনা ছবিই ফিরছে? বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা অন্তত সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



















