প্রার্থী তালিকা ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি, ভোটের মুখে বাড়ছে অন্তর্দ্বন্দ্ব

প্রার্থী তালিকা ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছে বিজেপি, ভোটের মুখে বাড়ছে অন্তর্দ্বন্দ্ব

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই চাপ বাড়ছে Bharatiya Janata Party-র ওপর—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমাগত ঘটে চলা ঘটনাবলি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। একদিকে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করার তাগিদ, অন্যদিকে দলীয় কর্মীদের অসন্তোষ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে কার্যত দিশেহারা রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
এখনও পর্যন্ত তিন দফায় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেও ২৯৪টি আসনের সবকটি পূরণ করতে পারেনি বিজেপি। তার মধ্যেই প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন দলীয় কর্মীরা। রাজ্যের একাধিক জায়গায় পার্টি অফিসে ভাঙচুর, বিক্ষোভ, পথ অবরোধ এমনকি তালা ঝোলানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে সল্টলেকের রাজ্য দপ্তরেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কর্মীরা।
রাজ্য সভাপতি Samik Bhattacharya বারবার বিক্ষুব্ধ কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। এমনকি দলের সর্বভারতীয় সভাপতি Nitin Nabin কলকাতায় থাকাকালীনও বিক্ষোভ থামেনি। বেলেঘাটা থেকে গোসাবা, রানাঘাট থেকে ময়নাগুড়ি—বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্য বিদ্রোহ দেখা যাচ্ছে।
এই অবস্থায় রাজনৈতিক মহলে কটাক্ষ শোনা যাচ্ছে—বাংলায় বিজেপির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ Mamata Banerjee বা তৃণমূল কংগ্রেস নয়, বরং বিজেপির নিজের অন্তর্দ্বন্দ্বই। তিন দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে, তা কার্যত সংগঠনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে।
সন্দেশখালি, উদয়নারায়ণপুর, হুগলি, কুলপি, হাওড়া, পলাশিপাড়া, হাবড়া, হিঙ্গলগঞ্জ, জলঙ্গি, চাপড়া, শ্রীরামপুর, বজবজ, জয়নগর—একাধিক জায়গায় প্রার্থী বদলের দাবিতে সরব হয়েছেন কর্মীরা। কোথাও পোস্টার, কোথাও ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, আবার কোথাও সরাসরি দলীয় অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি ময়নায় প্রার্থী Ashok Dinda-র বিরুদ্ধেও নিজের দলের কর্মীরাই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।
পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে Soumen Kharfa-কে ঘিরেও অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। কালনায় Siddhartha Majumdar-র বিরুদ্ধে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান উঠেছে। এইসব ঘটনায় স্পষ্ট, প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলীয় স্তরে ব্যাপক ক্ষোভ জমে রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, একাধিক ক্ষেত্রে টাকার বিনিময়ে টিকিট দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু আসনেও এই অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে চাপ বাড়ছে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক Bhupender Yadav-এর ওপর।
এদিকে, Dilip Ghosh-এর স্ত্রী Rinku Majumdar-কে টিকিট দেওয়া নিয়ে জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে বিতর্ক। যদিও রিঙ্কু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি কোনও পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মী হিসেবেই প্রার্থী হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে ভোটের মুখে বিজেপির অন্দরের এই অস্থিরতা কতটা প্রভাব ফেলবে নির্বাচনী ফলাফলে, এখন সেটাই দেখার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top