দেশ – পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল ভারত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি কথা বললেন সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন-এর সঙ্গে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল হরমুজ প্রণালী, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ খোলা রাখা।
শনিবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নরেন্দ্র মোদী জানান, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি উভয় দেশই একমত হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী—নিরাপদ ও সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এই বৈঠকে সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুবরাজকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী। উত্তেজনার মধ্যেও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার বার্তা দেয় নয়াদিল্লি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই পথ দিয়েই বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। বর্তমান সংঘাতের জেরে এই রুট আংশিকভাবে প্রভাবিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে এরই মধ্যে ভারতের দুই গ্যাসবাহী জাহাজ সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করেছে, যা কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের কূটনীতি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে। একদিকে ইরান ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে হরমুজ দিয়ে চলাচলে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক অটুট রাখছে ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বিমুখী কূটনৈতিক কৌশলের মূল লক্ষ্য হল জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কারণ ভারতের জ্বালানির বড় অংশই পশ্চিম এশিয়া নির্ভর। হরমুজ প্রণালীতে কোনও সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি প্রভাব পড়বে তেল ও গ্যাস সরবরাহে, যা দেশের অর্থনীতির উপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।



















