রাজ্য – ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড়সড় কৌশল বদলের পথে Communist Party of India (Marxist) (সিপিএম)। তৃণমূল বিরোধিতার জেরে বিজেপির দিকে চলে যাওয়া ভোট ফেরাতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছে বামেরা। শাখাস্তরে সমীক্ষা চালিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে সেইসব ভোটারদের, যাঁরা একসময় বাম সমর্থক হলেও পরবর্তী সময়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন।
সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ ভোটারদের বোঝাতে বলা হয়েছে বিজেপির ‘বিপদ’ সম্পর্কে। ইতিমধ্যেই সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন জেলায়। পার্টির এক জেলা নেতার কথায়, “যাঁরা গত কয়েকটি নির্বাচনে আমাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছেন, তাঁদের কাছেই আমরা সরাসরি পৌঁছচ্ছি।”
একসময় রাজ্যে প্রধান লড়াই ছিল বাম বনাম তৃণমূল। এখন সেই সমীকরণ বদলে দাঁড়িয়েছে All India Trinamool Congress বনাম Bharatiya Janata Party। এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বামেরা ক্রমেই প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে বলেই মত বিশ্লেষকদের। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএমের ভোট শতাংশ ছিল মাত্র ৪.৭১, যেখানে বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোট পায়, আর সিপিএম-কংগ্রেস জোটের ভোট শতাংশ ছিল অনেকটাই কম।
এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, বাম ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে সরে গিয়েছে—যা রাজ্য রাজনীতিতে ‘বাম ভোট রামে গিয়েছে’ বলেই পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে সেই হারানো জমি পুনরুদ্ধার করাই এখন প্রধান লক্ষ্য Communist Party of India (Marxist)-এর।
তবে জোট রাজনীতিতেও রয়েছে জটিলতা। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হলেও Indian Secular Front (আইএসএফ)-এর সঙ্গে ২৯টি আসনে সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু একাধিক ক্ষেত্রে প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় জোটের সমীকরণ পুরোপুরি মসৃণ হয়নি।
এই আবহে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি প্রচারে জোর দিচ্ছেন দলের রাজ্য সম্পাদক Mohammad Salim। তিনি ‘কেন বিজেপি দেশের শত্রু’ শীর্ষক একটি প্রচার পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন, যা সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে ভোটারদের কাছে পাঠানো হচ্ছে, যাতে তাঁরা যুক্তি সহকারে বিজেপির বিরোধিতা তুলে ধরতে পারেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল বিরোধিতায় অতীতে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার কিছুটা কমে গিয়েছিল সিপিএমের। সেই ভুল শুধরে নিয়েই এবার আগেভাগে মাঠে নেমে হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে বামেরা।




















