কলকাতা – ভোটের আগে কলকাতা পুলিশে বড়সড় রদবদলকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের মুখে Election Commission of India। শহরের ৩১টি থানার ওসি বদলের তালিকা প্রকাশ হতেই তাতে নাম উঠে আসা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন একাধিক আধিকারিক। বিশেষ করে পর্ণশ্রী থানার ওসি হিসেবে Abhijit Mondal-এর নাম প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়।
উল্লেখ্য, আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় Abhijit Mondal টালা থানার ওসি ছিলেন এবং সেই ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতারও করেছিল সিবিআই। এখনও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলার মধ্যেই তাঁকে নতুন থানার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কমিশনের অন্দরেই শুরু হয় তীব্র প্রশ্নোত্তর।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রাতেই তড়িঘড়ি সংশোধনী বার্তা দেয় কমিশন। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট কর্তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানান, অনিচ্ছাকৃতভাবে তালিকায় নাম ঢুকে পড়েছিল এবং তিনি দায়িত্ব নেবেন না। ফলে পর্ণশ্রী থানার বর্তমান আধিকারিকই নিজের পদে বহাল থাকছেন।
এই ঘটনার পরেই কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই তড়িঘড়ি বদলির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ মহলের একাংশের দাবি, নতুন করে যাঁদের ওসি করা হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই থানার কাজের পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা নেই।
এদিনের রদবদলে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর, কালীঘাট থেকে শুরু করে মধ্য কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট, বউবাজার, মুচিপাড়া এবং উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ থানায় নতুন ওসি নিয়োগ করা হয়েছে। ভবানীপুর থানার দায়িত্ব পেয়েছেন সৌমিত্র বসু, কালীঘাটে উৎপলকুমার ঘোষ, আমহার্স্ট স্ট্রিটে শুভদীপ চক্রবর্তী এবং আলিপুর থানায় প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী।
তালিকায় একাধিক নাম ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নিরুপম নাথকে একসঙ্গে দুই থানার দায়িত্ব দেওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ধরনের বড়সড় রদবদল স্বাভাবিক হলেও, এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ঘিরে কমিশনের পেশাদারিত্ব নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই ধরনের ভুল ভবিষ্যতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।




















