দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফলতা ও আরামবাগে অশান্তি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তৃণমূলের গুরুতর অভিযোগ, পাল্টা রাজনৈতিক তরজা তীব্র

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ফলতা ও আরামবাগে অশান্তি, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তৃণমূলের গুরুতর অভিযোগ, পাল্টা রাজনৈতিক তরজা তীব্র

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে এসেছে। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, ফলতা এলাকায় রবিবার রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষকরা তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে মধ্যরাতে হানা দেয় এবং তল্লাশির নামে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়।
তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় বাড়িতে থাকা মহিলাদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয়েছে এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করার মতো ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, যখন এই অভিযান চালানো হয়, তখন বাড়িতে কোনও পুরুষ সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ “অসাংবিধানিক” বলে উল্লেখ করে তৃণমূল জানিয়েছে, তারা এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হবে।
অন্যদিকে আরামবাগেও রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে তৃণমূলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। শাসক দলের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের উপর হামলা চালানো হয়েছে, যখন তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। মাঝরাস্তায় তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরবর্তীতে সভা থেকে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, “খেলা যখন ওরা শুরু করেছে, আমি শেষটা করব চার তারিখ।” পাশাপাশি আহত সাংসদের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কাচের টুকরো ঢুকে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক আক্রমণের পেছনে বিরোধীদের একাংশের ভূমিকা রয়েছে এবং সিপিএম ও বিজেপিকে একসাথে নিশানা করেন। তাঁর বক্তব্য, সিপিএমের “হার্মাদ”রা এখন বিজেপির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই ধরনের আক্রমণ চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর বিজেপিও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ঢাকতেই তৃণমূল এসব অভিযোগ করছে।
আরামবাগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার পরপরই এই ধরনের ঘটনার অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তৃণমূল নেতা শান্তনু সেন অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী সভা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাংসদের উপর হামলা হয়েছে, যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
সব মিলিয়ে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে ফলতা ও আরামবাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহার এবং ভোটের নিরাপত্তা—সবকিছু নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top