উত্তর চব্বিশ পরগনা -;উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের পথসভাকে ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে মহিলা সিপিএম কর্মী ও তাঁর বাবাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাম শিবির। পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুরে মহাজাতি সেন্ট্রাল মোড়ে বিজেপির পথসভা চলছিল। সেই সময় সিপিএম প্রার্থীর সমর্থনে টোটো প্রচার নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মুখোপাধ্যায় ও তাঁর বাবা সুরজিৎ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগ, তখনই বিজেপি কর্মীরা টোটো সরানোর দাবি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়।
পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। সিপিএমের দাবি, মঞ্চ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয় এবং পরে টোটোতে লাগানো ফ্লেক্স ছেঁড়া হয় ও মাইকের তার কেটে দেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে শ্রীলেখা মুখোপাধ্যায় ও তাঁর বাবাকে মারধর করা হয় এবং হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার পর শ্রীলেখা মুখোপাধ্যায় খড়দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, “প্রচার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছি, আমাকে ও আমার বাবাকে মারধর করা হয়েছে এবং হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাম শিবির বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। পানিহাটির বাম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত বলেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে বিজেপির প্রকৃত চরিত্র কী। তাঁর অভিযোগ, যারা নারী নিরাপত্তার কথা বলে, বাস্তবে তারাই এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, সভার জন্য প্রশাসনিক অনুমতি ছিল, কিন্তু আচমকা টোটো এনে মঞ্চের সামনে দাঁড় করানো হয়। মাইকের শব্দ নিয়ে বচসা থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয় বলে তাঁর দাবি, এবং মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে পানিহাটির এই সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।




















