রাজ্য – মেঘলা আকাশে গুমোট গরমে ভুগছে রাজ্যবাসী। ইতিমধ্যেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শুরু হয়েছে বৃষ্টি, আর তারই মধ্যে নতুন করে আরও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। সোমবার কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে অবশ্যই আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া উচিত।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাগরে থাকা একটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে এই ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পূর্ব বিহারের উপর প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে, যার কারণে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। এর ফলেই নতুন সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আজ ২৭ এপ্রিল নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং মুর্শিদাবাদে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে বাকি জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
ঝড়-বৃষ্টির কারণে রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিললেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বিশেষ করে পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলায় বজায় থাকবে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে এই ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা চলতে পারে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আগামী শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে এই ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি চলবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের ফলে রাজ্যজুড়ে জনজীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর।



















