নদীয়া – ভোটের (West Bengal Elections 2026) শেষ দিনের প্রচারের সন্ধ্যায় হালিশহরে এক তৃণমূল কর্মীকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানোর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে, এবং তৃণমূল সরাসরি বিজেপির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছেন প্রসেনজিৎ মৌলিক ওরফে রাজা, বর্তমানে তিনি কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাসবাটি নর্থ রোডের বাসিন্দা রাজা সোমবার সন্ধ্যায় হালিশহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিস্রি পুকুর রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় বাইকে করে কয়েকজন মুখ ঢাকা দুষ্কৃতী এসে তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ। মোট তিন রাউন্ড গুলি চলে। একটি গুলি তাঁর পেটে লাগে, বাকি দুটি গুলি তাঁর পকেটে থাকা মোবাইলে লাগে, ফলে বড় বিপদ এড়িয়ে যান তিনি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশবাহিনী। এলাকা ঘিরে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং হামলাকারীদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু হলেও কোনও নির্দিষ্ট সূত্র এখনও মেলেনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বীজপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীর অভিযোগ, “এটা বিজেপির সংস্কৃতি, ভোটে হারের ভয়ে দুষ্কৃতীদের দিয়ে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।” অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “এলাকার দুষ্কৃতীরা তৃণমূল-আশ্রিত, ঘটনা নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকেও হতে পারে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের হামলার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে।
আগামী বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে এমন একের পর এক হিংসার ঘটনায় রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশন আগেই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করার বার্তা দিলেও, ধারাবাহিক অশান্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।




















