দেশ – যে আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী শিবির তুলে আসছিল, ভোট পর্ব শেষ হতেই তা বাস্তবে পরিণত হল। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দামে একধাক্কায় ৯৯৩ টাকা বৃদ্ধি করেছে। ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের এই বিপুল মূল্যবৃদ্ধি ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে আপাতত সাধারণ গৃহস্থের জন্য স্বস্তির খবর, ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি রান্নার গ্যাসের দামে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।
প্রতি মাসের শুরুতেই রান্নার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করা হয়, কখনও তা বাড়ে আবার কখনও কমে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরুতে, ১ জানুয়ারি ২০২৬-এ ১১১ টাকা বৃদ্ধি হয়েছিল। এরপর ১ ফেব্রুয়ারিতে আরও ৪৯ টাকা এবং মার্চের শুরুতে ৩১ টাকা বাড়ানো হয়। গত মাসে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে একধাক্কায় ২১৮ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এবার মে মাসের শুরুতেই সেই বৃদ্ধি পৌঁছল ৯৯৩ টাকায়।
নতুন দামের তালিকা অনুযায়ী, ১ মে থেকে কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২০২ টাকা। শুধু কলকাতা নয়, দেশের অন্যান্য বড় শহরেও এই দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। দিল্লিতে এই সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ৩০৭১.৫ টাকা। যদিও এই পরিস্থিতিতেও গৃহস্থালি গ্যাসের দামে হাত না দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশনের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যাতে সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে, সে বিষয়ে সংস্থাগুলি সতর্ক রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মোটের উপর প্রায় ৮০ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি।
মূলত হোটেল, রেস্তরাঁ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ১৯ কেজির এই সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়। ফলে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে খাবারের দামেও। বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম নির্ধারণ করে থাকে, আর সেই কারণেই এবার বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে এই বড়সড় বৃদ্ধি দেখা গেল।




















