দিল্লি -ভোটের ফলাফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকাকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করল তৃণমূল কংগ্রেস।
নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, ভোট গণনার সময় প্রতিটি টেবিলে অন্তত একজন কেন্দ্রীয় সরকারি বা পাবলিক সেক্টর (PSU) কর্মীকে সুপারভাইজার বা সহকারী হিসেবে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশনের হ্যান্ডবুকে এমন কোনও কঠোর নিয়মের উল্লেখ নেই। সাধারণত কেন্দ্রীয় কর্মীদের মাইক্রো-অবজারভার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু সরাসরি গণনা টেবিলে তাঁদের নিয়োগ করা হলে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। দলের আরও দাবি, কেন্দ্রীয় কর্মীরা পরোক্ষে কেন্দ্রের প্রভাবাধীন হওয়ায় গণনার সময় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে একই ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিল তৃণমূল। তবে সেখানে আদালত জানায়, কেন্দ্রীয় বা রাজ্য—দুই ক্ষেত্র থেকেই কর্মী নিয়োগের এক্তিয়ার নির্বাচন কমিশনের রয়েছে এবং পক্ষপাতের কোনও স্পষ্ট প্রমাণ না থাকায় মামলা খারিজ করা হয়। এরপরই শাসকদল সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
শনিবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পি এস নরসিমা ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় গণনা প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছেন, বাইরের রাজ্যের পর্যবেক্ষক ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এনে তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, অবাধ ও স্বচ্ছ গণনার জন্য কেন্দ্রীয় কর্মীদের উপস্থিতি অপরিহার্য।
সব মিলিয়ে ভোটের ফল ঘোষণার আগে আদালতের এই শুনানি রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।




















