দেশ – NEET-UG 2026 প্রশ্ন ফাঁস বিতর্কে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র কাছে জবাব চাইলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর ইতিমধ্যেই নিট পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত ৩ মে National Testing Agency বা এনটিএ দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে নিট ইউজি পরীক্ষা আয়োজন করেছিল। প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরে অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষার প্রায় এক মাস আগেই কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল। সেই প্রশ্নপত্রে মোট ৪১০টি প্রশ্ন ছিল। পরীক্ষার পর দেখা যায়, রসায়নের ১২০টি প্রশ্ন মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। শুধু প্রশ্ন নয়, উত্তর বিকল্পও একই ছিল বলে অভিযোগ।
ঘটনা সামনে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত নিট পরীক্ষা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
ইতিমধ্যেই Central Bureau of Investigation বা সিবিআই তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছে বলে জানা গিয়েছে। রসায়নের অধ্যাপক, জীববিদ্যার লেকচারার-সহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।
প্রশ্ন ফাঁস ইস্যুতে প্রথম থেকেই কেন্দ্রকে আক্রমণ করে আসছেন রাহুল গান্ধী। রাজস্থানে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগও তিনি প্রকাশ্যে তুলেছিলেন। রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে ফের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি লেখেন, “২০২৪ সালে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল, পরীক্ষা বাতিল হয়নি। মন্ত্রীও পদত্যাগ করেননি। কমিটি গঠন হয়েছিল। আবার এ বছরও প্রশ্ন ফাঁস হল। সিবিআই তদন্ত হচ্ছে, আবার কমিটি গঠন হবে। কিন্তু মিস্টার মোদি, দেশবাসী আপনাকে কিছু প্রশ্ন করছে।”
রাহুল আরও প্রশ্ন তোলেন, “কেন বারবার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে? প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আপনি কেন সবসময় চুপ থাকেন? বারবার ব্যর্থ হওয়ার পরও কেন শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না?”
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। বিরোধীদের অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার নিরাপত্তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।




















