দেশ – দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বা ফরেক্স রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে আগামী এক বছর সোনা কেনা কমানোর আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কারণ অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত এই মহার্ঘ হলুদ ধাতু। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে Reserve Bank of India-এর ভাণ্ডারে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ প্রায় ৮৮০ টন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর বহু গুণ বেশি সোনা ছড়িয়ে রয়েছে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও সাধারণ মানুষের ঘরে।
World Gold Council-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সাধারণ নাগরিক ও মন্দির মিলিয়ে মোট সোনার পরিমাণ ৩০ হাজার টনেরও বেশি। এর মধ্যে মন্দিরগুলির সিন্দুকে রয়েছে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ হাজার টন সোনা। অন্যদিকে গৃহস্থের কাছে রয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টন। তুলনায় আমেরিকার সরকারি সোনার ভাণ্ডারে রয়েছে প্রায় ৮,৯৩১ টন সোনা। ফলে স্বর্ণ মজুদের নিরিখে ভারতের অবস্থান কতটা শক্তিশালী হতে পারে, সেই ধারণাই উঠে আসছে এই পরিসংখ্যানে।
তবে মূল সমস্যা হল, এই বিপুল সোনা দেশের মূল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে এবং তার পূর্ণ হিসাব সরকারের হাতে নেই। University of Minnesota-এর অধ্যাপক বার্টন স্টেইনের একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মন্দিরগুলি শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, অর্থনৈতিক শক্তিরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
দেশের বিভিন্ন মন্দিরে থাকা সোনার পরিমাণও চমকে দেওয়ার মতো। দাবি করা হয়, শ্রী পদ্মনাভস্বামী মন্দির-এ রয়েছে প্রায় ১৩০০ টন সোনা। তিরুপতি বালাজি মন্দির-এর ভাণ্ডারে রয়েছে প্রায় ১১,৩২৯ কিলোগ্রাম সোনা। এছাড়া শিরডি সাঁইবাবা মন্দির-এ প্রায় ৩৮০ কিলোগ্রাম, মীনাক্ষী অম্মান মন্দির-এ প্রায় ৩০০ কিলোগ্রাম এবং জগন্নাথ মন্দির-এ প্রায় ১৫০ কিলোগ্রাম সোনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, মন্দিরগুলির এই বিপুল সোনা যদি কোনওভাবে সরকারি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়, তাহলে দেশের সোনার ভাণ্ডার কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষের ঘরে থাকা সোনাও যদি আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে ভারতের অর্থনৈতিক শক্তি আরও বাড়বে বলেই মত অর্থনীতিবিদদের। যদিও বাস্তবে তা কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইতিহাস বলছে, দেশের আর্থিক সঙ্কটের সময়েও মন্দিরগুলি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। ১৯৬৫ সালের আর্থিক সঙ্কটের সময় তিরুপতি মন্দির কেন্দ্র সরকারকে ১২৫ কিলোগ্রাম সোনা দান করেছিল বলে দাবি করা হয়। আবার ২০২৫ সালে তামিলনাড়ুর ২১টি মন্দির প্রায় ১,০০০ কিলোগ্রাম সোনা রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেয়। সেই সোনা থেকে সুদ বাবদ আয়ও করছে রাজ্য সরকার।
এরই মধ্যে India Bullion and Jewellers Association বা আইবিজেএ প্রস্তাব দিয়েছে, মন্দির ট্রাস্টগুলির হাতে থাকা অন্তত ১,০০০ টন সোনাকে ‘স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় এনে মূল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হোক। এর ফলে সোনার আমদানি কমবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারও আরও সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




















