দক্ষিন চব্বিশ পরগনা – ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ পুনর্নির্বাচনের প্রচারে এসে প্রধান বিরোধী দল All India Trinamool Congress-কে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। একদিন আগেই প্রচারে এসে তৃণমূলকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার ফলতার সভা থেকে আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, “তৃণমূল এখন অতীত, বাংলায় নতুন যুগ শুরু হয়েছে।”
ফলতা-র সভা থেকেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতেও এবার গেরুয়া শিবির জায়গা করে নিয়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতার মানুষ আগের সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, “আগের সরকারের আমলে নেতা, মন্ত্রী আর পুলিশ-প্রশাসন একাকার হয়ে গিয়েছিল। সেই প্রতিকূলতার মধ্যেও বিজেপি কর্মীরা দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করেছেন। আজ মানুষ তৃণমূলকে রাজনৈতিকভাবে নির্বাসিত করে দিয়েছে।” কটাক্ষের সুরে তিনি আরও বলেন, “একেনবাবুর মাথায় চুল গজালেও গজাতে পারে, কিন্তু তৃণমূল আর ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না।”
নাম না করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও নিশানা করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “এখানকার নেতা বলেছিলেন ৪ তারিখ রাত ১২টার পর ডিজে বাজবে। এখন তিনি কোথায়? এখন ডিজের বদলে তৃণমূল নেতাদের ঘরে ঘরে হারমোনিয়াম বাজছে। তোমাকে আমরা খুব মিস করছি, একটু তো সামনে এসো।”
উল্লেখ্য, এর আগে আরামবাগে মিতালি বাগের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “৪ তারিখ রাত ১২টার পর দেখে নেব কার কোন দিল্লির বাবা কাকে বাঁচায়। সেদিন রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজেও বাজবে।” সেই মন্তব্যকেই ইঙ্গিতে তুলে এনে পাল্টা কটাক্ষ করেন শমীক ভট্টাচার্য।
সভায় তিনি আরও বলেন, “মাননীয় বীরবাবু, আপনাকে আমরা খুব মিস করছি। এভাবে লুকিয়ে থাকবেন না, সামনে আসুন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যও ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করেই।
আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এখনও পর্যন্ত প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসকে খুব একটা সক্রিয়ভাবে দেখা যাচ্ছে না বলেই দাবি রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের।




















