দিল্লি – দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলার চাপ কমাতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। Supreme Court of India-এ বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বেড়ে হবে ৩৭। ফলে অতিরিক্ত চার জন বিচারপতি নিয়োগের পথ কার্যত খুলে গেল। আইন মহলের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল। গত ৫ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রায় ছ’বছর পর ফের দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিল কেন্দ্র।
রবিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। বর্তমানে সংসদের অধিবেশন না থাকায় অধ্যাদেশের মাধ্যমেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে এই অধ্যাদেশ বিল আকারে পেশ করে আইনে পরিণত করা হতে পারে বলেও সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
সরকারি মহলের দাবি, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ক্রমবর্ধমান মামলার চাপ সামাল দিতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। বিচারপতির সংখ্যা বাড়লে মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষাও কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের সংবিধানের ১২৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং সংসদ নির্ধারিত সংখ্যক বিচারপতি থাকেন। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার এই সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ১৯৫৬ সালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ১০। ১৯৬০ সালে তা বেড়ে হয় ১৩। ১৯৭৭ সালে সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭-তে। মামলার চাপ বাড়তে থাকায় ১৯৮৬ সালে বিচারপতির সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫ করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে তা বেড়ে হয় ৩০ এবং ২০১৯ সালে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৩৩। এবার আরও চার জন বিচারপতি যোগ হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে হল ৩৭।
বর্তমানে দেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন সূর্য কান্ত। তাঁর নেতৃত্বেই সম্প্রসারিত বেঞ্চে কাজ করবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।




















