খেলা – আইএসএলের মহাডার্বি শেষ হল অমীমাংসিতভাবে। East Bengal FC ও Mohun Bagan Super Giant-এর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলে ড্র হয়। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন-এ প্রায় ৬২ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমে ওঠে ডার্বির আবহ। ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখে তিনি যেমন উচ্ছ্বসিত, তেমনই মেসি-কাণ্ড নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন তিনি।
ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে Lionel Messi-কে দেখতে এসে যেসব দর্শক বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে টিকিট কেটেও কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা পাননি, বরং ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। তাই যাঁরা সেদিন টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে কঠোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ডার্বির উন্মাদনায় মুগ্ধ হলেও নিশীথ প্রামাণিক আক্ষেপের সুরে বলেন, মেসি-কাণ্ড বাংলার ক্রীড়া ইতিহাসে এক লজ্জাজনক অধ্যায়। এর আগেই তিনি এই ঘটনার ফাইল খুলেছেন বলেও জানান। তাঁর দাবি, যাঁদের ‘কুচক্র’ ও অন্তর্ঘাতের কারণে বাংলার মাথা নীচু হয়েছে, তদন্তে তাঁদের ভূমিকা সামনে আসবে এবং কাউকেই ছেড়ে কথা বলা হবে না।
অন্যদিকে, কলকাতায় মেসিকে আনার অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত ইতিমধ্যেই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-এর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করার কথা জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস ও ঘনিষ্ঠদের ‘বাড়াবাড়ি’র কারণেই মেসিকে তড়িঘড়ি যুবভারতী থেকে বের করে নিয়ে যেতে হয়েছিল, যার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। এই প্রসঙ্গে নিশীথ প্রামাণিক বলেন, শতদ্রু দত্ত আলোচনা করতে চাইলে সরকার কথা বলতে প্রস্তুত।
একইসঙ্গে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে রাজনীতিমুক্ত করার বার্তাও দেন ক্রীড়ামন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “খেলার মাঠ রাজনীতিমুক্ত হবে, খেলোয়াড়রা রাজনীতিমুক্ত হবেন। ফেডারেশন ও ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে নেপোটিজম এবং পরিবারবাদ থেকেও মুক্ত হতে হবে।” তিনি দাবি করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার ক্রীড়াক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।




















