সরকারি হাসপাতালগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নতুন নির্দেশিকা জারি লালবাজারের

সরকারি হাসপাতালগুলিতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নতুন নির্দেশিকা জারি লালবাজারের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – সরকারি হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার পর বারবার প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। এবার সেই পরিস্থিতিতে কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করল লালবাজার।
হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের জন্য আলাদা নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র টহলদারি নয়, হাসপাতালের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের সম্পত্তি রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দিকেও বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তখন বিরোধী শিবিরে থাকা বিজেপি হাসপাতালগুলিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে সরব হয়েছিল।
বর্তমানে ক্ষমতায় এসে সেই ইস্যুতেই সক্রিয় হয়েছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পরে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন থানার সঙ্গেও আলোচনা করেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। এরপরই জারি করা হয় এই বিশেষ নির্দেশিকা।
নতুন গাইডলাইনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল চত্বরে কোনও রকম গোলমাল বা উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় থানাকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে হাসপাতালের গেটে রোগী, পরিজন এবং গাড়ির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালগুলিতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, তা রুখতেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলা হয়েছে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের। প্রশাসনের মতে, হাসপাতালের ভিতরে অনিয়ন্ত্রিত ভিড় এবং বেআইনি দালালচক্র চিকিৎসা পরিষেবাকে ব্যাহত করছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তায় নিযুক্ত বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের কাজের উপরেও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কে কখন ডিউটিতে থাকবেন, তার জন্য নির্দিষ্ট রস্টার তৈরির কথা বলা হয়েছে। সেই রস্টার মেনে দায়িত্ব পালন হচ্ছে কি না, তাও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
প্রতিদিন ডিউটি শুরুর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া এবং ডিউটি শেষে রিপোর্ট সংগ্রহ করার ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষের ভিড় হয়। অনেক সময় সেই ভিড় সামাল দিতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। তাই ওপিডি এবং ইমার্জেন্সি বিভাগের বাইরে যাতে বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই কারণেই সরকারি হাসপাতালগুলিকে আরও সুরক্ষিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তুলতে এই নতুন নির্দেশিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top